ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের প্রভাবে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সামরিক বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদদের মতে, এই যুদ্ধের ফলে মার্কিন অর্থনীতির ক্ষতির পরিমাণ ২১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৫ লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৩৫ টাকা হিসেবে)।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার পর তেহরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে টান পড়েছে এবং ইউরোপ-আমেরিকায় হাহাকার শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) লেনদেন শেষে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের (WTI) দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা পর্যায়ে গ্যাসোলিনের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পেন হোয়ার্টন বাজেট মডেলের পরিচালক কেন্ট স্মেটার্স এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, যুদ্ধের ধরন ও স্থায়িত্বের ওপর ভিত্তি করে এই আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৫০ বিলিয়ন থেকে ২১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য এবং জ্বালানি বাজার ইতোমধ্যে বড় ধাক্কা খেয়েছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এই ক্ষতির অংক আরও বাড়বে।’
অন্যদিকে ‘গ্রাউন্ডওয়ার্ক কোলাবোরেটিভ’-এর নীতি প্রধান অ্যালেক্স জ্যাকুয়েজ মনে করেন, বাজার পরিস্থিতি বর্তমানে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ঝুঁকিকে অবমূল্যায়ন করছে। তাঁর মতে, হরমুজ প্রণালী দ্রুত স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে যুদ্ধের অর্থনৈতিক হুমকি স্বীকার করেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা করেছেন যে, মার্কিন সরকার জ্বালানি ট্যাঙ্কারগুলোর জন্য সরকারি বীমা প্রদান করবে। এছাড়া প্রয়োজন হলে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে ‘এসকর্ট’ বা পাহারা দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। ট্রাম্পের দাবি, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি শ্রেষ্ঠ এবং আমরা বিশ্বে জ্বালানির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করবই।’
অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি এই বিশাল সামরিক অভিযানে আমেরিকার প্রতিরক্ষা বাজেট থেকে অতিরিক্ত আরও ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। ট্রাম্প এই অভিযানের নাম দিয়েছেন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। কংগ্রেসকে লেখা এক চিঠিতে ট্রাম্প জানিয়েছেন, যদিও তিনি টেকসই শান্তি চান, তবে এই অভিযানের পূর্ণ পরিধি ও স্থায়িত্ব এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। এর আগে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, এই বোমাবর্ষণ ৪ থেকে ৫ সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে।
ইরান যদি তাদের আধুনিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে পাল্টা হামলা অব্যাহত রাখে, তবে আমেরিকার এই আর্থিক ক্ষতির বোঝা আরও বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।
তুরস্কে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত, পাল্টা হামলার হুমকি
এবার নাগরিকদের দ্রুত কাতার ছাড়তে বললো যুক্তরাষ্ট্র
খামেনির দাফন কবে ও কোথায়
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর ক্ষিপ্ত ট্রাম্প
