পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট স্থায়ীভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেশোয়ার-এ অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট স্থায়ীভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। আফগান সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত এই কূটনৈতিক মিশনটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বার্তা প্রকাশ করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম  জানায়, ব্যয় কমানো এবং প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, কনস্যুলেটটি বন্ধ করা হলে বছরে প্রায় ৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০১ সালে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরুর সময় পেশোয়ারের এই কনস্যুলেট গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন ও লজিস্টিক সহায়তা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। আফগান সীমান্তের নিকটবর্তী হওয়ায় কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসকে কনস্যুলেটটি বন্ধ করার পরিকল্পনা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে। তাদের মতে, এই পদক্ষেপ পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সিদ্ধান্তটি হঠাৎ নেওয়া হয়নি। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিষয়টি পর্যালোচনার মধ্যে ছিল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যখন বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থার আকার ছোট করার উদ্যোগ নেয়, তখন থেকেই এই কনস্যুলেট বন্ধের বিষয়টি আলোচনায় আসে। ফলে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানানো হয়েছে।

তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের পর পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ দেখা দেয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর এক ঘটনায় ১১ জন নিহত হওয়ার পর করাচি-তে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট সাময়িকভাবে তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছিল।

দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের খবরে বলা হয়েছে, কনস্যুলেটটি বন্ধ করতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রায় ৩০ লাখ ডলার ব্যয় হবে। এর বড় অংশ ব্যয় হবে সেখানে ব্যবহৃত সাঁজোয়া ট্রেলার সরিয়ে নিতে। এগুলো অস্থায়ী অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

এ ছাড়া কনস্যুলেটের বিভিন্ন সরঞ্জাম, আসবাবপত্র ও যানবাহন বহর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এবং করাচি ও লাহোর এ-এর কনস্যুলেটে স্থানান্তর করা হবে।

দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানের সঙ্গে স্থলপথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে পেশোয়ার কনস্যুলেট গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। একই সঙ্গে উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সহায়তা প্রদান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা প্রত্যাশী আফগান নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

কনস্যুলেটটি বন্ধ হয়ে গেলে পেশোয়ার অঞ্চলে বসবাসরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য কনস্যুলার সেবা দেওয়া হবে ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে। পেশোয়ার থেকে ইসলামাবাদের দূরত্ব প্রায় ১৮৪ কিলোমিটার।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, বিদেশি সহায়তা কর্মসূচি তদারকি কিংবা মার্কিন নাগরিকদের সহায়তা প্রদানে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটবে না, কারণ এসব কার্যক্রম ইতোমধ্যেই মূলত ইসলামাবাদ দূতাবাস থেকেই পরিচালিত হচ্ছে।

আগে চলতি মাসের শুরুতে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে করাচি ও লাহোরে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট থেকে জরুরি নয় এমন কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের পাকিস্তান ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। পরে এক ভ্রমণ সতর্কতায় জানানো হয়, পেশোয়ারের কনস্যুলেটও সাময়িকভাবে তাদের কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে।

সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট

AS/AHA
আরও পড়ুন