ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে দেশটির তেল বাণিজ্য অচল করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারিমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তিনি বলেছেন, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় বেসেন্ট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিষ্কার বলেছেন যে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ অব্যাহত থাকবে।’
‘আর মাত্র কিছুদিনের মধ্যে ইরানের খার্গ দ্বীপের ডিপোগুলোর ধারণক্ষমতা পূর্ণ হয়ে যাবে এবং তেলের সরবরাহ বাইরে পাঠাতে না পারায় দেশটির তেলকূপগুলো বন্ধ করতে বাধ্য হবে তেহরান। ইরানের তেল বাণিজ্য সীমিত করার অর্থ হলো সরাসরি শাসকগোষ্ঠীর রাজস্ব আয়ের প্রধান উৎসগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা।’
ইরানের আর্থিক সক্ষমতা হ্রাসের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবেই যুক্তরাষ্ট্র দেমটির অর্থনীতির ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উল্লেখ করে এক্সবার্তায় স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি মন্ত্রণালয় তেহরানের তহবিল সংগ্রহ, স্থানান্তর এবং আটকে থাকা তহবিল মুক্ত করার যাবতীয় প্রচেষ্টাকে পদ্ধতিগতভাবে হ্রাস করবে।’
তিনি বলেন, ‘মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ‘ইকোনমিক ফিউরি’র মাধ্যমে তেহরানের তহবিল সংগ্রহ, স্থানান্তর এবং দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষমতাকে পদ্ধতিগতভাবে হ্রাস করার জন্য সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে।’

কোনো দেশ বা পক্ষ যদি এক্ষেত্রে ইরানকে সহযোগিতা করে, তাহলে সেই দেশ বা পক্ষে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার গুরুতর ঝুঁকিতে থাকবে বলেও জানিয়েছেন স্কট বেসেন্ট।
ইরানের তেল বাণিজ্য ধ্বংসের পাশাপাশি দেশটির আর্থিক সম্পদ ফ্রিজ করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলেও উল্লেখ করেছেন বেসেন্ট। এক্সবার্তায় এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘ইরানের দুর্নীতিপরায়ন শাসকগোষ্ঠী চৌর্যবৃত্তির মাধ্যমে যে তহবিল গড়ে তুলেছে, ইরানের জনগণের পক্ষে তা ফ্রিজ করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
সূত্র: এএফপি
নজরবিহীন খামেনি, অদৃশ্য নেতৃত্বেই চলছে ইরানের শাসনব্যবস্থা
আরব দেশগুলোর তেল স্থাপনায় হামলার হুমকি আইআরজিসির