ইরানে যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একক ক্ষমতা সীমিত করতে মার্কিন সিনেটে একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব পাস হয়েছে। এই বিল অনুযায়ী, ইরানে যেকোনো সামরিক অভিযান পরিচালনা বা পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে ট্রাম্প প্রশাসনকে অবশ্যই কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে।
বুধবার (২৪ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৩ জুন) মার্কিন সিনেটে প্রস্তাবটি ৫০-৪৮ ভোটে পাস হয়। এর আগে এটি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদেও অনুমোদিত হয়েছিল। বর্তমানে সিনেটে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকা সত্ত্বেও তাদের চারজন সিনেটর দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে একজন বাদে সব ডেমোক্র্যাট সদস্য এই বিলটিকে সমর্থন জানান। দলের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়া চার রিপাবলিকান হলেন- লুইসিয়ানার বিল কাসিডি, আলাস্কার লিসা মুরকোস্কি, মেইনের সুসান কলিন্স এবং কেনটাকির র্যান্ড পল। এছাড়া মিচ ম্যাককনেল ও ডেভ ম্যাককরমিক ভোটদানে বিরত ছিলেন।
মার্কিন ইতিহাসে এবারই প্রথম যুদ্ধসংক্রান্ত কোনো প্রস্তাব কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সফলভাবে পাস হলো। তবে এটি মূলত একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, কারণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাবে ‘ভেটো’ দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রস্তাব পাসের পর ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বছরের পর বছর ধরে ট্রাম্প ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি এই বিপর্যয়কর যুদ্ধের মাধ্যমে আমেরিকান জনগণের জন্য কেবল সর্বোচ্চ বিশৃঙ্খলা ও ক্ষয়ক্ষতি বয়ে এনেছেন। অন্যদিকে, রিপাবলিকান সিনেটর জেমস রিশ দাবি করেন, এর ফলে সুইজারল্যান্ডে চলমান শান্তিসংলাপে ট্রাম্পের অবস্থান দুর্বল হবে।
পাস হওয়া এই প্রস্তাবে ইরানের বিরুদ্ধে অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ করে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কেবল যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের ওপর ‘আসন্ন কোনো হামলা’ প্রতিরোধের জন্য সীমিত সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। রয়টার্স ও ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৪ শতাংশ আমেরিকান এই যুদ্ধকে যৌক্তিক মনে করছেন।
লেবাননে শান্ত পরিস্থিতির পর আবারও ইসরায়েলি গুলি
ইরানের জন্য নিয়ম পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের