গাজার অর্ধেকেরও বেশি মানুষ পানি সংকটে: জাতিসংঘ

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৭ পিএম

গাজা উপত্যকার অর্ধেকেরও বেশি বাসিন্দা চরম পানি, পয়োনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশের সংকটে ভুগছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় বিষয়ক দপ্তর (ওসিএইচএ)।

সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার ১৩ লাখেরও বেশি মানুষ- যা মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি, পান করা ও রান্নাবান্নার জন্য দিনে জনপ্রতি ৬ লিটারেরও কম পানি পাচ্ছেন। অথচ জরুরি পরিস্থিতিতে জীবনধারণ, রান্না ও ধোয়ামোছার জন্য একজন মানুষের দিনে অন্তত ১৫ লিটার পানির প্রয়োজন হয় বলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উল্লেখ রয়েছে।

এছাড়া গাজার আরও ৭ লাখ মানুষ (মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি) দৈনিক সর্বোচ্চ ৯ লিটার পানি পাচ্ছেন। ওসিএইচএ সতর্ক করে জানিয়েছে, পানির এই তীব্র সংকট ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা, ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখা এবং শিশুদের মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

জাতিসংঘের এই সংস্থাটি আরও জানায়, পানির স্থানগুলোতে মানুষকে ভিড় ও গাদাগাদি সহ্য করতে হচ্ছে। বাড়ি পর্যন্ত পানি বহন করে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পাত্র বা বালতিও তাদের কাছে নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পানি সংগ্রহের এই কঠিন কাজটি শিশুদেরই করতে হচ্ছে।

বর্তমানে গাজার চারজনের মধ্যে তিনজনই সম্পূর্ণভাবে পানির ট্রাকের ওপর নির্ভরশীল। গত মাসে বিভিন্ন মানবিক সহায়তাকারী সংস্থা প্রতিদিন গাজাজুড়ে ২,৫০০টিরও বেশি পানি সংগ্রহ কেন্দ্র এবং ১০০টিরও বেশি বাস্তুচ্যুত শিবিরে পানি সরবরাহ করেছে।

ওসিএইচএ আরও উল্লেখ করেছে, গাজার মোট পরিবারের মাত্র অর্ধেক মৌলিক পয়োনিষ্কাশন সুবিধা বা ব্যক্তিগত শৌচাগার ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন। একইসঙ্গে ৯ লাখেরও বেশি মানুষ আবাসিক এলাকাগুলোতে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার পচা দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছেন।

YA
আরও পড়ুন