ট্রাম্পের ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসায় বছরে আয় এক বিলিয়ন ডলারের বেশি

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর প্রথম পূর্ণ বছরে ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংশ্লিষ্ট ব্যবসা থেকে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করেছেন বলে তাঁর ২০২৫ সালের বাধ্যতামূলক আর্থিক বিবরণীতে উঠে এসেছে। ৯২৭ পৃষ্ঠার এই আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ট্রাম্পের মোট ঘোষিত আয় অন্তত ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের ঘোষিত আয়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। এই আয়কে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে স্বার্থের সংঘাত নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিবিসি নিউজ -এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘সেলিব্রেশন কয়েনস’ (Celebration Coins) নামে একটি প্রতিষ্ঠানের রয়্যালটি বাবদ ট্রাম্প প্রায় ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় দেখিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটিকে তাঁর নামে চালু হওয়া ট্রাম্প মিম কয়েনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষমতায় ফেরার ঠিক আগে চালু হওয়া এই ডিজিটাল টোকেনের বাজারমূল্য পরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও রয়্যালটি থেকে বিপুল অঙ্কের আয় হয়েছে বলে আর্থিক বিবরণীতে উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি তাঁর ছেলে ও বিশেষ দূত স্টিভেন চার্লস উইটকফ -এর পরিবারের সদস্যদের প্রতিষ্ঠিত ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল থেকে ৫০ কোটিরও বেশি ডলার আয় করেছেন ট্রাম্প।

ক্রিপ্টো খাতের বাইরে ট্রাম্পের আয়ের বড় উৎস ছিল তাঁর বিভিন্ন রিসোর্ট, গলফ ক্লাব এবং লাইসেন্সিং ব্যবসা। ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো ক্লাব থেকে প্রায় ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং ডোরাল গলফ ক্লাব থেকে প্রায় ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় হয়েছে। এছাড়া নিউ জার্সির বেডমিনস্টার, ফ্লোরিডার জুপিটার এবং স্কটল্যান্ডের টার্নবেরি গলফ ক্লাব থেকেও কয়েক কোটি ডলার আয় করেছেন তিনি। ট্রাম্প ব্র্যান্ডের ঘড়ি, বাইবেল, সুগন্ধি, জুতা ও গিটার বিক্রির রয়্যালটি থেকেও কয়েক মিলিয়ন ডলার আয় দেখানো হয়েছে।

প্রথম নারী মেলানিয়া ট্রাম্প ও পৃথকভাবে তাঁর আয় প্রকাশ করেছেন। তিনি একটি প্রামাণ্যচিত্র-সংক্রান্ত লাইসেন্স চুক্তি থেকে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং এনএফটি বিক্রি থেকে আরও প্রায় ৬০ লাখ ডলার আয় করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে বিভিন্ন আইনি মামলার সমঝোতা থেকেও ট্রাম্প প্রায় ৮ কোটি ৬৫ লাখ ডলার আয় দেখিয়েছেন। এর মধ্যে এবিসি, সিবিএস, মেটা এবং ইউটিউবের এবং এক্স -এর সঙ্গে হওয়া সমঝোতার অর্থও রয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই অর্থের বড় অংশ ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি ও জনকল্যাণমূলক তহবিলে ব্যয় করা হবে।

হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আনা কেলি  দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ‘ক্রিপ্টো রাজধানী’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই কাজ করছেন এবং তাঁর বা তাঁর পরিবারের কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রমে স্বার্থের সংঘাত নেই। ট্রাম্পের ব্যবসাগুলো তাঁর ছেলেদের পরিচালিত একটি ট্রাস্টের অধীনে রয়েছে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুনরায় জানানো হয়েছে।

তবে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনাও তীব্র হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ. বুশ এর প্রশাসনের হোয়াইট হাউসের সাবেক প্রধান নৈতিকতা আইনজীবী রিচার্ড পেইন্টার বলেছেন, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় প্রেসিডেন্টের এ ধরনের বিপুল ক্রিপ্টো আয় ‘অসাধারণ’ এবং এটি স্পষ্টতই স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন উত্থাপন করে। অপরদিকে সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান রেমন্ড জেমস-এর কর্মকর্তা উইল ওয়াকার-আর্নট  মন্তব্য করেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার নিজের চিনাবাদামের খামার ব্লাইন্ড ট্রাস্টে দিয়েছিলেন এবং জর্জ ডব্লিউ. বুশ প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে তাঁর বেসবল দলের মালিকানা বিক্রি করেছিলেন। সে তুলনায় ট্রাম্প সম্পূর্ণ ভিন্ন পদ্ধতিতে ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং পারিবারিক ক্রিপ্টো উদ্যোগ থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থ উপার্জন করছেন।

উল্লেখ্য, একসময় বিটকয়েন-কে ‘প্রতারণা’ বলে সমালোচনা করা ট্রাম্প পরবর্তীতে অবস্থান পরিবর্তন করে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের শীর্ষ ক্রিপ্টো কেন্দ্র বানানোর প্রতিশ্রুতি দেন। ক্ষমতায় ফিরে তিনি ক্রিপ্টো শিল্পের বিকাশে সহায়ক নীতি গ্রহণ করেন এবং ডিজিটাল সম্পদ খাতকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন।

সূত্র: বিবিসি

Attr/AHA
আরও পড়ুন