'ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন'

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার একটি পথ খুঁজে বের করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে তিনটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ আরও তীব্র করার জন্য হাতে থাকা সামরিক বিকল্পগুলো উল্টো ফল দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কেইন। তাঁর মতে, শুধু বিমান শক্তি ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হতে পারে। এ কারণে তিনি সংঘাত থেকে বের হওয়ার সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা করছেন।

কেইন এ বিষয়ে সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এসব আলোচনার লক্ষ্য ছিল ইরানে সামরিক অভিযান বাড়ানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা বিকল্পগুলোর সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি তুলে ধরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানে স্থল সেনা পাঠানোর বিষয়ে অনাগ্রহী। তিনি বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানকে তাঁর শর্তে একটি চুক্তিতে রাজি করানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে কেইনসহ প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, শুধু বিমান হামলার মাধ্যমে সেই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হওয়ার সম্ভাবনা কম।

এদিকে যুদ্ধ আরও বাড়ানোর সামরিক বিকল্প নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। জুলাইয়ের শেষ দিকে ইরানে আরও বড় ধরনের হামলার একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হলেও সংঘাত বাড়ানোর সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে কেইন ও কয়েকজন কর্মকর্তা সতর্ক ছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সঙ্গে কথা বলার পর ট্রাম্প ওই সময়ের জন্য হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন।

যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধাস্ত্রের মজুত কমে আসাও সামরিক পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শীর্ষ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা অস্ত্রের মজুতকে উদ্বেগজনকভাবে কম বলে মনে করছেন বলে আগের এক প্রতিবেদনের তথ্যও এতে তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দিলেও কেইনসহ কয়েকজন মনে করেন, এমন হামলা ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার বদলে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোয় পাল্টা হামলার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এতে ইরানের জনগণের মধ্যেও সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরির বদলে উল্টো প্রতিক্রিয়া হতে পারে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সবশেষে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেইন ও তাঁর মতো অবস্থানে থাকা কর্মকর্তারা এমন একটি পথ খুঁজছেন, যাতে ট্রাম্প অন্তত একটি প্রতীকী রাজনৈতিক জয় দেখাতে পারেন এবং একই সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতার সুযোগও বজায় থাকে। এর সম্ভাব্য সূচনা হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে একটি চুক্তির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: সিএনএন

AS
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত