'ইরানকে কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র পেতে দেওয়া হবে না'

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম

ইরানকে কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না বলে আবারও কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অচলাবস্থায় থাকা এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ দিনের সমঝোতার সময়সীমা শেষ হওয়ার দিনই তিনি এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যেন কোনোভাবেই, কোনো পরিস্থিতিতেই পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে, এটাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য এবং সবসময় থাকবে।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন ইসলামাবাদ সমঝোতায় নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা কোনো স্থায়ী সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। ওই সমঝোতার আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা ছিল। তবে দুই পক্ষের পারস্পরিক অভিযোগের মধ্যে আলোচনা থমকে রয়েছে।

ইরান এরই মধ্যে জানিয়েছে, কৃত্রিম সময়সীমা বা চাপের ভিত্তিতে তেহরান তার নীতি নির্ধারণ করবে না। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইয়ের ভাষ্য, ৬০ দিনের বিষয়টি এখন আর প্রাসঙ্গিক নয়, কারণ সমঝোতা অনুযায়ী কোনো আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র সেটি লঙ্ঘন করেছে বলে ইরানের দাবি।

ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে অবশ্য পারমাণবিক ইস্যুটিকে আবারও স্পষ্টভাবে ওয়াশিংটনের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এর আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র না পায় এবং বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল থাকে, এই দুই বিষয়কে যুদ্ধের লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

ফলে ট্রাম্পের নতুন মন্তব্যকে তাঁর প্রশাসনের সাম্প্রতিক অবস্থানের সঙ্গে তুলনা করেও দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে ওয়াশিংটন কী ধরনের সমাধান চাইছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধও আলোচনার অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে রয়েছে। সমঝোতার বাস্তবায়ন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এবং প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো পরস্পরবিরোধী। সূত্র: ডন

AS
আরও পড়ুন