যুদ্ধের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন চায় ইউক্রেনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৫ পিএম

ইউক্রেনের বরখাস্ত হওয়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ যুদ্ধ চলাকালেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার অনলাইনে দেওয়া প্রায় নয় মিনিটের এক ভিডিও বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মধ্যেও দেশটির পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধার করা প্রয়োজন।

ফেদোরভ সরাসরি প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নাম উল্লেখ না করলেও তার সরকারের বিরুদ্ধে ‘সুশাসনের পদ্ধতিগত সংকট’, দুর্নীতি এবং স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, কোনো সরকারি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতা ও ফলাফলের পরিবর্তে ব্যক্তিগত আনুগত্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া উদ্বেগজনক।

কেন এখন নির্বাচনের দাবি?

রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর ইউক্রেনে সামরিক আইন জারি রয়েছে। দেশটির আইনে সামরিক আইনের অধীনে নির্বাচন আয়োজন নিষিদ্ধ। জেলেনস্কির পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৪ সালের মে মাসে শেষ হলেও যুদ্ধের কারণে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

ফেদোরভের যুক্তি, যুদ্ধের কারণে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকাল বন্ধ রাখা উচিত নয়। তার ভাষায়, রাশিয়ার কারণে ইউক্রেনের গণতন্ত্রকে জিম্মি করা উচিত নয়। তিনি যুদ্ধের মধ্যেও নির্বাচন আয়োজনের জন্য একটি আইনসম্মত, নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।

জেলেনস্কির সঙ্গে ফেদোরভের দূরত্ব

ফেদোরভ একসময় জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ৩৫ বছর বয়সী এই রাজনীতিক ২০১৯ সাল থেকে ইউক্রেনের ডিজিটাল রূপান্তরবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেন। পরে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তাকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী করা হয়। তবে মাত্র ছয় মাসের মাথায় জুলাইয়ে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

তার বরখাস্তকে কেন্দ্র করে ইউক্রেনে বিক্ষোভও হয়। ফেদোরভের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর তৎকালীন প্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কির মতবিরোধও প্রকাশ্যে আসে। পরে সিরস্কিকেও পদ থেকে সরানো হয়।

এরই মধ্যে জেলেনস্কি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে ইয়েভহেন খমারাকে স্থায়ীভাবে নিয়োগের জন্য পার্লামেন্টে মনোনয়ন দিয়েছেন। ফলে ফেদোরভের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে ফেরার সম্ভাবনাও কার্যত কমে গেছে।

ফেদোরভ কি জেলেনস্কির প্রতিদ্বন্দ্বী?

ফেদোরভ তার বক্তব্যে নিজে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেননি। তবে তার জনপ্রিয়তা ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থানকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সাম্প্রতিক একটি জরিপে প্রথম দফার ভোটে জেলেনস্কি ২২.৩ শতাংশ এবং সাবেক সেনাপ্রধান ভ্যালেরি জালুঝনি ২১.৪ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফেদোরভের সমর্থন ছিল ১৩.১ শতাংশ। তবে দ্বিতীয় দফার সম্ভাব্য ভোটে ওই জরিপে ফেদোরভ ও জালুঝনি—দুজনের কাছেই জেলেনস্কি পরাজিত হতে পারেন বলে দেখা গেছে।

নির্বাচন হলে চ্যালেঞ্জও কম নয়

যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা ইউক্রেনের জন্য বড় ধরনের বাস্তব ও নিরাপত্তাগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। দেশটির লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত বা বিদেশে অবস্থান করছেন। একই সঙ্গে প্রায় ১০ লাখের বেশি মানুষ সামরিক বাহিনীতে রয়েছেন এবং দেশের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড রুশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ অবস্থায় ভোটারদের নিরাপত্তা, বিদেশে থাকা নাগরিকদের ভোটাধিকার, সম্মুখসারিতে থাকা সেনাদের ভোট এবং রুশ হামলার মধ্যে ভোটকেন্দ্র পরিচালনা—সবকিছুই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে।

ফলে ফেদোরভের নির্বাচনের আহ্বান শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; এটি যুদ্ধকালীন ইউক্রেনের গণতন্ত্র, নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে নতুন বিতর্কেরও সূচনা করেছে। এখন দেখার বিষয়, তার এই আহ্বান ইউক্রেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে কতটা সমর্থন পায় এবং জেলেনস্কি সরকার এ বিষয়ে কী অবস্থান নেয়।

Maz
আরও পড়ুন