ইউএস এইডের ৬০ কর্মকর্তাকে ছুটিতে পাঠালেন ট্রাম্প

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদেশ ব্যর্থ করার অভিযোগে তাদের ছুটিতে পাঠিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। 

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৫, ০৫:১৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএস এইডের প্রায় ৬০ জন সিনিয়র ক্যারিয়ার কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদেশ ব্যর্থ করার অভিযোগে তাদের ছুটিতে পাঠিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। খবর রয়টার্স।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ইউএস এইডের অ্যাক্টিং অ্যাডমিনিস্ট্রেটর জেসন গ্রে’র পাঠানো একটি অভ্যন্তরীণ মেমোতে বলা হয়, ‘নতুন নেতৃত্ব কয়েকটি কার্যক্রম চিহ্নিত করেছে যা প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশ এবং আমেরিকান জনগণের মতামত এড়াতে পরিকল্পিত বলে মনে করা হচ্ছে। এ কারণে, আমরা কয়েকজন ইউএস এইডের কর্মীকে পূর্ণ বেতন ও সুবিধাসহ প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠিয়েছি।’

এই সিদ্ধান্ত বিশ্বের বৃহত্তম একক দাতার পক্ষ থেকে দেওয়া বিলিয়ন ডলার মূল্যের জীবন রক্ষাকারী সহায়তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ২০২৩ অর্থবছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৭২ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা বরাদ্দ করেছিল। ২০২৪ সালে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণে থাকা মানবিক সহায়তার ৪২ শতাংশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মেমোতে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের সংখ্যা উল্লেখ না করা হলেও, ছয়টি সূত্রের তথ্যমতে প্রায় ৫৭ থেকে ৬০ জন কর্মী এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়েছেন।

এই কর্মীরা ইউএস এইডের ওয়াশিংটন ভিত্তিক বিভিন্ন ব্যুরোর নেতৃত্বে ছিলেন। তাদের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা, পানি নিরাপত্তা, শিশু শিক্ষা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত। এমনকি সংস্থার সাধারণ পরামর্শক দফতরের কর্মীদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ছুটিতে পাঠানো কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সোমবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে তারা একটি ইমেইল পান যেখানে জানানো হয় তাদের প্রশাসনিক ছুটিতে রাখা হয়েছে এবং এর কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

ট্রাম্প প্রশাসন গত সপ্তাহে অফিসে ফিরে এজেন্সিগুলোর শত শত কর্মীকে পুনর্বহাল বা বরখাস্ত করেছে। শুক্রবার পররাষ্ট্র দফতর বিশ্বব্যাপী সহায়তা স্থগিতের নির্দেশ দেয়। শুধুমাত্র জরুরি খাদ্য সহায়তা এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

এর আগে, শনিবার (২৫ জানুয়ারি) ট্রাম্প প্রশাসন ইউএস এইডের কর্মীদের আহ্বান জানায়, তারা যেন ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্বব্যাপী সহায়তা বরাদ্দকরণে পরিবর্তন আনতে সাহায্য করে। নির্দেশনা উপেক্ষা করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় তাদের।

Fj
আরও পড়ুন