শিনজো আবেকে হত্যার দায়ে হামলাকারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:০৩ পিএম

জাপানের আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত তেতসুয়া ইয়ামাগামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) দেশটির নারা শহরের একটি আদালতে বিচারক শিনিচি তানাকা এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ৪৫ বছর বয়সী ইয়ামাগামি ২০২২ সালে প্রকাশ্য জনসমাবেশে আবেকে গুলি করে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছিলেন। জাপানে আগ্নেয়াস্ত্র সহিংসতা অত্যন্ত বিরল হওয়ায় এই হত্যাকাণ্ড দেশটিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং মানুষের মনে গভীরভাবে নাড়া দেয়। জাপানের আইনে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে প্যারোলের সুযোগ থাকলেও বিশেষজ্ঞদের বলছেন, এ ধরনের অধিকাংশ বন্দিই কারাগারেই মৃত্যুবরণ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষ ইয়ামাগামিকে যাতে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়, সে দাবি করেছিল। প্রসিকিউটররা আদালতে বলেন, এই হত্যাকাণ্ড যুদ্ধ-পরবর্তী জাপানের ইতিহাসে নজিরবিহীন এবং এর সামাজিক প্রভাব অত্যন্ত গুরুতর। গত অক্টোবরে বিচার শুরু হলে তারা যুক্তি দেন, ইউনিফিকেশন চার্চের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই ইয়ামাগামি আবেকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন।

আদালতে প্রসিকিউটর বলেন, ‘ইয়ামাগামি ভেবেছিলেন, আবের মতো প্রভাবশালী একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করলে ইউনিফিকেশন চার্চের প্রতি জনদৃষ্টি আকর্ষণ করা যাবে এবং প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সমালোচনা বাড়বে।’ অন্যদিকে, আসামিপক্ষ সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিল। তারা দাবি করে, ইয়ামাগামির পরিবার মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়ে, কারণ তার মা চার্চটিতে জীবনের সব সঞ্চয় দান করেছিলেন।

এদিকে রায়ের দিন অর্থাৎ বুধবার সকালে নারা আদালতে প্রবেশের টিকিট সংগ্রহে মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা যায়, যা মামলাটি ঘিরে জনস্বার্থের গভীরতা তুলে ধরে। আবের হত্যাকাণ্ড জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) এবং ইউনিফিকেশন চার্চের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে উন্মোচিত করে। দলটির অভ্যন্তরীণ তদন্তে দেখা যায়, শতাধিক আইনপ্রণেতার সঙ্গে চার্চটির যোগাযোগ ছিল, যা ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

জাপানি গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, ইয়ামাগামি আদালতে বলেন, চার্চের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তা পাঠানোর কারণে তিনি আবের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। ১৯৫৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রতিষ্ঠিত ইউনিফিকেশন চার্চ তাদের গণবিবাহ আয়োজনের জন্য পরিচিত এবং জাপানি অনুসারীরাই তাদের আয়ের বড় উৎস।

দেশের ভেতরে বিতর্কিত হলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শিনজো আবে ছিলেন প্রভাবশালী নেতা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন এবং ২০১৬ সালের নির্বাচনের পর ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা তিনিই প্রথম বিদেশি নেতা।

শিনজো আবে দুই দফায় মোট ৩ হাজার ১৮৮ দিন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন তিনি। বর্তমানে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী সানায়ে তাকাইচি জাপান ও এলডিপির নেতৃত্বে থাকলেও দলটির দীর্ঘদিনের ক্ষমতার দখল উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাকাইচি ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বারবার আবের সঙ্গে তার বন্ধুত্বের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন।

NB/AHA
আরও পড়ুন