রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন আঁকার জন্য পরিচিত রুশ শিল্পী ও সরকারবিরোধী কর্মী সেমিওন স্ক্রেপেটস্কিকে পোল্যান্ডে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার ১৬ জুন সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
পোলিশ প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, তার নাম রবার্ট কুজোভকভ (৪৪), তিনি শিল্পী সেমিয়ন স্ক্রেপেটস্কি নামে পরিচিত। ৪৪ বছর বয়সী স্ক্রেপেটস্কি পোল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলীয় শহর বিয়ালা পোডলাস্কায় বসবাস করতেন। বেলারুশ সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত এই শহরের কেন্দ্রস্থলে সোমবার সকালে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর হামলাকারীরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির ধরন দেখে এটি একটি লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড বলেই প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। তবে এখনো হত্যার উদ্দেশ্য কিংবা এর পেছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে কয়েকটি পোলিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঘটনার পর বিয়ালা পোডলাস্কায় অবস্থিত বেলারুশ কনসুলেটের আশপাশ থেকে এক বেলারুশ নাগরিককে আটক করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ।
পোল্যান্ডের প্রসিকিউটর ও পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ চলছে এবং আগামী দিনগুলোতে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
স্ক্রেপেটস্কি দীর্ঘদিন ধরে পুতিন, চেচেন নেতা রমজান কাদিরভসহ রুশ শাসকগোষ্ঠীর বিভিন্ন ব্যক্তিকে ব্যঙ্গচিত্রের মাধ্যমে সমালোচনা করতেন। রাজনৈতিক নিপীড়নের আশঙ্কায় ২০২১ সালে তিনি রাশিয়া ছেড়ে পোল্যান্ডে আশ্রয় নেন।
মৃত্যুর কয়েক দিন আগেও তিনি জার্মানির বার্লিনে রুশ দূতাবাসের সামনে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। সেখানে তাকে সোভিয়েত নেতা জোসেফ স্ট্যালিন ও শিশু পুতিনকে নিয়ে আঁকা একটি বিতর্কিত চিত্রকর্ম হাতে দেখা যায়।
এই হত্যাকাণ্ড এমন এক সময়ে ঘটল, যখন পোল্যান্ড ও রাশিয়ার সম্পর্ক তীব্র উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ওয়ারশ দীর্ঘদিন ধরে মস্কো ও তার মিত্র বেলারুশের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা, নাশকতার চেষ্টা এবং বিভিন্ন ধরনের হাইব্রিড কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ করে আসছে।
যদিও এখন পর্যন্ত এই হত্যার সঙ্গে রুশ রাষ্ট্রীয় কোনো সংস্থার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবুও ঘটনাটি রাশিয়ার ভিন্নমতাবলম্বী, সাংবাদিক ও সরকার সমালোচকদের ওপর অতীতে হওয়া বিভিন্ন হামলার স্মৃতি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এটি সত্যিই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকে, তাহলে তা ইউরোপে নির্বাসিত রুশ বিরোধী কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করবে।