জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদন

‘শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইসরায়েল’

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম

জাতিসংঘের একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, গাজা ও পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর ইসরায়েলের ইচ্ছাকৃত হামলা তাদের চলমান গণহত্যারই একটি অংশ। কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনি শিশুদের হত্যা অব্যাহত রেখেছে, যা গাজায় গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।

১৯৪৮ সালের গণহত্যা কনভেনশনের অধীনে থাকা পাঁচটি নিষিদ্ধ কাজের মধ্যে হত্যা, গুরুতর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতিসাধন, ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি এবং বংশবৃদ্ধি রোধ করার মতো চারটি অপরাধই ইসরায়েল সংঘটিত করেছে বলে প্রতিবেদনে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় নিহতদের প্রায় ৩০ শতাংশই শিশু। জাতিসংঘের শিশু সংস্থা (ইউনিসেফ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে এ পর্যন্ত ৫০,০০০-এরও বেশি শিশু নিহত বা আহত হয়েছে। এমনকি ২০২৫ সালের অক্টোবরে তথাকথিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় আট মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রতিদিন গড়ে একজন করে ফিলিস্তিনি শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

শিশুদের ওপর এই হামলার প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। ইসরায়েল কর্তৃক গাজার নবজাতক ও প্রসূতি সেবা কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করায় গর্ভপাত, জন্মগত ত্রুটি এবং দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ফিলিস্তিনিদের প্রজনন ভবিষ্যৎ এবং নবজাতকদের বেঁচে থাকাকে সরাসরি বিপন্ন করেছে। একই সাথে ইসরায়েলের সাহায্য অবরোধের কারণে অনাহারজনিত মৃত্যু ঘটেছে এবং টিকাদানের হার কমে যাওয়ায় শিশুদের মধ্যে রোগের প্রকোপ মারাত্মকভাবে বেড়েছে। গাজা ছাড়াও অধিকৃত পশ্চিম তীরে এতিমখানা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে, যা শিশুদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

নিহত বা আহত হওয়ার পাশাপাশি ফিলিস্তিনি শিশুরা ব্যাপক গ্রেপ্তার ও আটকের সম্মুখীন হচ্ছে। ডিফেন্স ফর চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল-প্যালেস্টাইনের মতে, ইসরায়েলি কারাগারে আটক শিশুদের অর্ধেকেরও বেশি কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই বন্দি রয়েছে এবং সেখানে তাদের নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নসহ নানা গুরুতর দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হচ্ছে। মানবিক সংস্থাগুলোর কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় এই শিশুরা বর্তমানে আরও বেশি অরক্ষিত হয়ে পড়েছে।

‘শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি জনগণের অস্তিত্ব রক্ষা এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সক্ষমতার ওপরই আঘাত হানছে। গাজা ও পশ্চিম তীরে বোমা ও বন্দুকের শব্দ থেমে গেলেও ফিলিস্তিনি শিশুরা রাতারাতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে না।’
— শ্রীনিবাসন মুরালিধর, চেয়ারম্যান, জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন।

জাতিসংঘের কমিশন শিশুদের ওপর হামলার জন্য দায়ী ইসরায়েলি সামরিক ইউনিটগুলোকে চিহ্নিত করেছে এবং ফিলিস্তিনি শিশুদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এই সহিংসতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। তবে জেনেভায় অবস্থিত ইসরায়েলি মিশন এই প্রতিবেদনটিকে একটি "মানহানিকর প্রহসন" বলে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, প্রত্যেক শিশুরই সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে, তবে এই প্রতিবেদনে হামাসের নৃশংস কৌশলকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা

Attr/AHA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত