থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি জনপ্রিয় মিউজিক বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩০ জনে পৌঁছেছে। এখনও ২৪ জন হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার নানা ত্রুটি ও সম্ভাব্য অবহেলার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
রোববার (১৩ জুলাই) রাতে ব্যাংককের চাতুচাক এলাকার রং বিয়ার না লাডপ্রাও (Rong Beer Na Ladprao) বারে আগুন লাগে। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন দমকলকর্মীরা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) থাই কর্তৃপক্ষ জানায়, বহু আহত ব্যক্তি চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন, তবে ২৪ জনের অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন।
ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপুন্ট বলেছেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে আরও কঠোর ও আকস্মিক নিরাপত্তা পরিদর্শনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
পুলিশপ্রধান কিত্তারাথ পুনপেচ জানান, বারে চারটি বের হওয়ার পথ থাকলেও দুটি পেছনের জরুরি নির্গমনপথ ঠিকভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছিল কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। একটি দরজার সামনে টেবিল রাখা ছিল, আরেকটির সাইনবোর্ড ক্ষতিগ্রস্ত ছিল এবং দরজার হাতলও ছিল না। এছাড়া রান্নাঘরে গ্যাস সিলিন্ডার ছিল কি না এবং সেগুলো আগুন ছড়িয়ে পড়তে ভূমিকা রেখেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছাদের এয়ার কন্ডিশনারে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। যদিও বারটি চলতি বছরের এপ্রিল মাসেই নিরাপত্তা পরিদর্শন পাস করেছিল। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল জানান, সেখানে গান গাইছিলেন এমন এক সংগীতশিল্পী তাকে বলেছেন, মঞ্চের পাশে একটি সার্কিট ব্রেকার থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখার পরই বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো বার ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার কিয়ুংইল বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্নি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ লি ইয়ং-জুর মতে, ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ, সাউন্ড বা লাইটিং সরঞ্জাম কিংবা নষ্ট তার থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত ছাদের দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে অনেক মানুষ ফুল ও শোকবার্তা রেখে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
সূত্র: আলজাজিরা
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কার শঙ্কা
আইসিইর গুলিতে কলম্বিয়ান যুবক নিহতের ঘটনায় তীব্র বিতর্ক
হোয়াইট হাউসেও ট্রাম্পকে হত্যার সক্ষমতার দাবি ইরানের