কিয়েভে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে বড় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। রোববার (১৯ জুলাই) ভোররাতের কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এ হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা একে যুদ্ধ শুরুর পর কিয়েভের ওপর সবচেয়ে বড় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি একটি ‘নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা’। তিনি মস্কোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানান।

ইউক্রেনের জাতীয় পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় কিয়েভের অন্তত ছয়টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবাসিক ভবন, অফিস, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ছাত্রাবাস এবং অসংখ্য যানবাহনে আগুন ধরে যায়। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে বাসিন্দাদের উদ্ধার করেন এবং একটি ভবন থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

কেন্দ্রীয় ইউক্রেনের দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলেও রুশ হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে রুশ ড্রোন হামলায় ট্রেনটির এক কন্ডাক্টর নিহত হন। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেল কর্তৃপক্ষ হামলার পর জ্বলন্ত বগির ছবিও প্রকাশ করেছে।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাতভর রাশিয়া ৪১টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যার মধ্যে ১৮টি ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে। তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতির কারণে দেশটি এখনও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

এদিকে ইউক্রেন দাবি করেছে, কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে সফল হামলা চালিয়েছে তাদের বাহিনী। দখলকৃত ক্রিমিয়ায় জ্বালানি ও রসদ সরবরাহ ব্যাহত করাই ছিল এই অভিযানের লক্ষ্য।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ এখন তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, প্রতিদিনই আরও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন এবং মিত্র দেশগুলোর প্রতিশ্রুত সহায়তা দ্রুত পৌঁছানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: আলজাজিরা

AS
আরও পড়ুন