বসনিয়ার মুসলিমদের ওপর গণহত্যা চালানো বসনিয়ান-সার্ব যুদ্ধাপরাধী জেনারেল রাতকো ম্লাদিচেরকে সামরিক মর্যাদা দিয়ে দাফন করেছে সার্বিয়া। গত সপ্তাহে নেদারল্যান্ডসের হেগের একটি কারা হাসপাতালে ৮৪ বছর বয়সে মারা যান তিনি।
১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত চলা বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার যুদ্ধে আট হাজার মুসলিমকে হত্যায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন ম্লাদিচের। গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৭ সালে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) কে তার মরদেহ সার্বিয়ায় পৌঁছায়। কফিনটি সার্বিয়ার জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ছিল। ছয়জন সেনাসদস্য কফিনটি বহন করেন। এ সময় ম্লাদিচেরের ছেলে এবং দেশটির বিচারমন্ত্রী নেনাদ ভুজিচও উপস্থিত ছিলেন।
পরে পুলিশের পাহারায় মরদেহটি সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডের একটি সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। মৃত্যুর কারণ জানতে সেখানে মরদেহের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এরপর তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এর আগে ম্লাদিচেরকে রাষ্ট্রীয় সম্মানে বিদায় জানানোর কথা জানিয়েছিলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্ডার ভুচিচ। এ নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সমালোচনা করে বলেছে, ম্লাদিচেরের মতো অপরাধীদের ইউরোপে কোনো স্থান নেই এবং তার সংঘটিত অপরাধেরও কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।
১৯৯৫ সালে জাতিসংঘ ঘোষিত নিরাপদ এলাকা স্রেব্রেনিৎসায় প্রায় আট হাজার মুসলিম পুরুষ ও বালককে হত্যার ঘটনায় ম্লাদিচেরের ভূমিকা ছিল অন্যতম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের মাটিতে এটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ গণহত্যাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার নির্দেশে মুসলিম পুরুষ ও বালকদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল।
গণহত্যার পর আন্তর্জাতিকভাবে ম্লাদিচেরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি অভিযান শুরু হয়। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর ২০১১ সালের মে মাসে সার্বিয়ার একটি গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারের মুখোমুখি করা হয়।
২০১৭ সালে আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই বছরের রায়ে আদালত তার সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে মানবজাতির বিরুদ্ধে সংঘটিত জঘন্যতম অপরাধগুলোর অন্যতম বলে অভিহিত করেন। ২০২১ সালে রায়ের বিরুদ্ধে ম্লাদিচেরের করা আপিলও খারিজ করে দেওয়া হয়।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অভিযানে বেলুচিস্তানে নিহত ১২
তাইজে হুথিদের হামলা, আবারও ঘর ছাড়ছেন শত শত পরিবার
রাশিয়ার তেল না কিনলেও যুদ্ধ থামবে না: জয়শঙ্কর