দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালির সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সরকার পরিচালনার রেকর্ড গড়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার টানা ১ হাজার ৪১২ দিন ক্ষমতায় থাকার রেকর্ড অতিক্রম করে। সমর্থকেরা এ অর্জন উদ্যাপন করলেও বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, দীর্ঘস্থায়িত্বকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সমার্থক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য পরিচিত ইতালিতে গত আট দশকে ৬৮টি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বার্লুসকোনি চার মেয়াদ মিলিয়ে মোট দীর্ঘ সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও টানা সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর রেকর্ড এবার ছাড়িয়ে গেছে মেলোনির নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি ব্রাদার্স অব ইতালির সরকার।
২০২২ সালের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন মেলোনি। এরপর থেকে তাঁর নেতৃত্বাধীন জোট সরকার টিকে আছে এবং ইতালির রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
মেলোনির দলের সমর্থকেরা এ অর্জনকে বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন। তুস্কানি-এমিলিয়ান অ্যাপেনাইনের পাহাড়ি শহর আবেতোনে কুতিলিয়ানোতেও এ উপলক্ষে উদ্যাপনের আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় ব্রাদার্স অব ইতালির কাউন্সিলর আন্দ্রেয়া তোনারেল্লি বলেন, এক দশক আগেও এমন সাফল্য কল্পনা করা কঠিন ছিল।
মেলোনির দলের তরুণ সমর্থকদের মধ্যে তাঁর সরকারের দীর্ঘস্থায়িত্ব নিয়ে উচ্ছ্বাস রয়েছে। দলটির সংসদ সদস্য গ্রাজিয়া দি মাজ্জিও এটিকে অত্যন্ত প্রতীকী ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, মেলোনি ইতালির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং ডানপন্থি রাজনীতি থেকে উঠে এসে তিনি সরকার পরিচালনায় সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন।
তবে সরকারের দীর্ঘস্থায়িত্বকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রমাণ হিসেবে মানতে নারাজ বিশ্লেষকেরা। রোমা ত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকালীন ইতিহাসের শিক্ষক পাওলো কারুসি বলেন, একটি সরকারের কত দিন ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার একমাত্র মাপকাঠি নয়।
কারুসির মতে, মেলোনি সরকারের টিকে থাকার পেছনে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৮ সালের নির্বাচনী আইন ডানপন্থি জোটকে ২০২২ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সুযোগ করে দেয়। পাশাপাশি জোটের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে ব্রাদার্স অব ইতালি তাদের নির্বাচনী কর্মসূচির অনেক প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে।
এদিকে মেলোনির সরকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে সাবেক সেনা জেনারেল রবার্তো ভান্নাচ্চির নেতৃত্বাধীন নতুন ডানপন্থি দল। মাত্র সাত মাসের মধ্যেই দলটি ইতালির চতুর্থ জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ২০২৭ সালের সাধারণ নির্বাচনে দলটি নিজেদেরই প্রকৃত ডানপন্থি শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বোলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞানী পিয়েরো ইগনাজিও মেলোনি সরকারের দীর্ঘস্থায়িত্বকে স্থবিরতার লক্ষণ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, স্থিতিশীলতা পরিবর্তন আনার মাধ্যম হতে পারে, আবার কখনো তা স্থবিরতা কিংবা উল্টো পথে যাওয়ার কারণও হতে পারে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও মেলোনি সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ২০২৬ সালে ইতালির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মাত্র শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আগামী বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে প্রবৃদ্ধির দিক থেকে ইতালি সবচেয়ে পিছিয়ে এবং সরকারি ঋণের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে।
এ ছাড়া সরকারের সামাজিক নীতিও সমালোচনার মুখে পড়েছে। সমালোচকদের দাবি, সরকার এমন কিছু কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যেগুলো আগে জরিমানা বা দেওয়ানি শাস্তির আওতায় ছিল। ইগনাজির ভাষ্য, নতুন করে ৫২টি অপরাধের বিধান করা হয়েছে এবং এর বড় অংশই জনমত প্রকাশ ও প্রতিবাদের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর মতে, এ প্রবণতা ইতালির গণতান্ত্রিক পরিসরের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। সূত্র: আলজাজিরা
হরমুজে নজরদারিতে পি-৮ পোসাইডন বিমান পাঠাবে দক্ষিণ কোরিয়া
গাজা নিয়ে আর নীরবতা নয়, বড় পদক্ষেপ চান যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের নতুন উদ্যােগ