পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করেছে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। এবারের ইশতেহারে মূলত ১০টি বিশেষ ‘প্রতিজ্ঞা’র ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা আগামী ৫ বছরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি।
শুক্রবার (২০ মার্চ) কলকাতায় তৃণমূল ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এই ইশতেহার উন্মোচন করেন।
ইশতেহার প্রকাশকালে মমতা ব্যানার্জি বলেন, ‘উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলার প্রতিটি ঘরে সুখ ও সমৃদ্ধি পৌঁছে দিতে এই ১০টি প্রতিজ্ঞা পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে।’
নারীদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়াতে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ভাতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। নতুন ইশতেহার অনুযায়ী, সাধারণ শ্রেণির নারীরা মাসে ১,৫০০ রুপি এবং তপশিলি জাতি ও জনজাতিভুক্ত (SC/ST) নারীরা মাসে ১,৭০০ রুপি করে পাবেন।
‘বাংলার যুব-সাথী’ প্রকল্পের মাধ্যমে বেকার যুবক-যুবতীদের প্রতি মাসে ১,৫০০ রুপি করে আর্থিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখা হবে।
কৃষকদের কল্যাণে দেশে প্রথমবার ৩০ হাজার কোটি রুপির একটি বিশাল ‘বিশেষ কৃষি বাজেট’ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ভূমিহীন কৃষকদের জন্য নেওয়া হবে বিশেষ সহায়তা প্রকল্প।
প্রতিটি পরিবারের জন্য পাকা বাড়ি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিটি ঘরে বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবাকে আরও তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যেতে ব্লক ও টাউন স্তরে নিয়মিত ‘দয়ারে চিকিৎসা’ ক্যাম্প বা ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিক পরিচালনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
‘বাংলার শিক্ষায়তন’ প্রকল্পের অধীনে রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলোর আমূল সংস্কার ও পরিকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। এছাড়া আধুনিক বন্দর, লজিস্টিকস হাব ও গ্লোবাল ট্রেড সেন্টার তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রশাসনিক সেবা পৌঁছে দিতে রাজ্যে আরও ৭টি নতুন জেলা গঠন করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া প্রবীণদের জন্য বার্ধক্য ভাতার পরিমাণ ও পরিধিও বাড়ানো হবে।
মমতা ব্যানার্জির মতে, এই ইশতেহার কেবল কোনো প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এটি আগামী পাঁচ বছরে বাংলার ‘সুশাসন ও উন্নয়নের পথনকশা’।
বিধানসভা নির্বাচন: ২৯১ আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ঘোষণা
বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ১৪৪, বামফ্রন্টের ১৯২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা
