মিয়ানমারে জান্তা প্রধানকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন আং হ্লেইংকে দেশটির পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। 

সোমবার (৩০ মার্চ) দেশটির নতুন সংসদ অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা করা হয়। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা একে একটি ‘সাজানো নাটক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, কারণ গত সাধারণ নির্বাচনে দেশটির মূল বিরোধী দলগুলোকে অংশগ্রহণের সুযোগই দেওয়া হয়নি।

মিন আং হ্লেইংয়ের রাষ্ট্রপতি হওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। কারণ তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সংসদে আরও যে দুজনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে, তারা উভয়েই জেনারেলের অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহযোগী এবং তাদের জয়ের কোনো সম্ভাবনাই নেই। 

মিয়ানমারের আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হতে হলে মিন আং হ্লেইংকে সেনাবাহিনী থেকে পদত্যাগ করতে হবে। তবে পদ ছাড়লেও সামরিক বাহিনীর ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব বজায় রাখার মাস্টারপ্ল্যান আগেভাগেই সেরে রেখেছেন তিনি। তার পরিবর্তে সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তারই অতি ঘনিষ্ঠ জেনারেল ইয়েউইনও-কে। এছাড়া মিন আং হ্লেইং একটি নতুন শক্তিশালী ‘পরামর্শক কাউন্সিল’ গঠন করেছেন, যা তাকে সামরিক ও বেসামরিক- উভয় খাতেই চূড়ান্ত খবরদারি করার সুযোগ দেবে।

২০২১ সালে রক্তক্ষয়ী সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকে মিন আং হ্লেইং পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন।

সেনা অভ্যুত্থানের পর গত পাঁচ বছর ধরে মিয়ানমার এক ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং কয়েক কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বর্তমানে দেশটির অধিকাংশ সীমান্ত অঞ্চল বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এমন টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই এই বিতর্কিত নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলো।

মিয়ানমারের এই নতুন প্রশাসন মূলত বর্তমান সামরিক জান্তা সরকারেরই একটি বর্ধিত সংস্করণ, যা এখন কেবল বেসামরিক মোড়কে পরিচালিত হবে। মিন আং হ্লেইং বা তার সহযোগীরা বিরোধীদের ওপর চলমান সহিংসতা বা কঠোর দমননীতি থেকে সরে আসবেন-এমন কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি।

FJ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত