পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ঐতিহাসিক জয়ের পর রাজ্য ও কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অচলাবস্থা নিরসনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিজেপি সরকার গঠনের মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যেই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনাই দলটির প্রধান লক্ষ্য। সীমান্ত জেলাগুলোতে বর্তমানে যে জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটছে, তা রোধ করতে ‘শনাক্ত করো, নির্মূল করো এবং বিতাড়িত করো’ নীতি বাস্তবায়নের কথা বলছে গেরুয়া শিবির। সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এই বেড়া দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
গত দেড় দশকে তৃণমূল কংগ্রেস শাসিত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের তীব্র বিরোধ ছিল। বিশেষ করে ২০২১ সালে বিএসএফের কার্যপরিধি ১৫ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৫০ কিলোমিটার করার প্রস্তাবকে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এছাড়া সিএএ (CAA) এবং এনআরসি (NRC) আইন কার্যকর করা নিয়েও তৈরি হয়েছিল তুমুল বিতর্ক। নবগঠিত বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসায় এখন বিএসএফ ও পুলিশ যৌথ অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খাগড়াগড় ও ভূপতিনগর বিস্ফোরণের মতো স্পর্শকাতর ঘটনার তদন্তে আগে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছিল কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো। পশ্চিমবঙ্গ জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘পদ্ম’ ফোটার আনন্দ প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ায় সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতাগুলো দ্রুত কেটে যাবে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ রিজার্ভ ঘোষণা