ভারতের নেটপাড়ায় ঝড় তুলেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

আপডেট : ২০ মে ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে এক নজিরবিহীন ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক আন্দোলন। জন্ম হলো নতুন রাজনৈতিক সংগঠনের, নাম যার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janta Party-CJP)। 

নিজেদের ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক গোষ্ঠী বলছে তারা। নয়া এই ‘রাজনৈতিক দলে’ই এখন মজে ‘জেন জি’ থেকে গোটা সোশ্যাল মিডিয়া। সংগঠনের নাম শুনলেই চমকে উঠছেন অনেকে। আবার কেউ হেসে গড়াগড়ি খাচ্ছেন। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’, মাত্র দু’দিনের পুরনো এই রাজনৈতিক মঞ্চ এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল চর্চার কেন্দ্রে। নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে, ‘যুবদের দ্বারা, যুবদের জন্য, যুবদের রাজনৈতিক মঞ্চ’ হিসেবে। আর দলের মূলমন্ত্র, ‘ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক, অলস’।

দল গঠনের পর থেকেই সদস্য সংগ্রহ শুরু করেছে আরশোলা জনতা পার্টি। দাবি, ইতিমধ্যেই ৭০ হাজার সদস্য জুটে গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও দ্রুত বাড়ছে অনুসারীর সংখ্যা। এমনকি তৃণমূলের দুই সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদকেও ‘দলে স্বাগত’ জানিয়েছে এই নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ।

কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে লেখেন, তিনি এই দলে যোগ দিতে চান। বর্ধমান-দুর্গাপুরের সাংসদ কীর্তি আজাদও মজা করে জানতে চান, যোগদানের জন্য কী যোগ্যতা লাগবে। তার উত্তরে আরশোলা জনতা পার্টির জবাব, ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ জেতাই যথেষ্ট!

যে হারে ফলোয়ার বেড়েছে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় তা দেখে তাজ্জব অনেকে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, কে এই দলের প্রতিষ্ঠাতা, কেই বা একাজ করছেন।

জানা যাচ্ছে, এই দল তৈরি করেছেন অভিজিৎ দীপকে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, তিনি আগে আম আদমি পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২০ সালের দিল্লি বিধানসভা ভোটে কাজও করেছেন।

দলের নাম নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার যুবকদের ‘আরশোলা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন-এমন অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পরে অবশ্য প্রধান বিচারপতি দাবি করেন, তাঁর মন্তব্য ভুল ভাবে উদ্ধৃত হয়েছে। সেই ঘটনারই ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবেই ‘আরশোলা জনতা পার্টি’ নামটি উঠে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

দলের সোশ্যাল মিডিয়া পাতায় ইতিমধ্যেই প্রকাশ হয়েছে কৃত্রিম মেধায় তৈরি গান। সেখানে শোনা যাচ্ছে, ‘আমরা আরশোলা পার্টি, জ্বলন্ত শহরের সন্তান।’

তরুণ প্রজন্মকে টানতে ভার্চুয়াল সম্মেলনের ডাক দিয়েছে দল। নিজেদের সদস্য হওয়ার শর্ত হিসেবেও মজা করে বলা হয়েছে-বেকার হতে হবে, অলস হতে হবে, সারাক্ষণ অনলাইন থাকতে হবে এবং পেশাদারিভাবে অভিযোগ করার ক্ষমতা থাকতে হবে।

তবে শুধু ব্যঙ্গ নয়, রাজনৈতিক বার্তাও রাখছে আরশোলার দল। পরীক্ষায় দুর্নীতি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া, দলবদল, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সংসদে মহিলাদের ৫০ শতাংশ সংরক্ষণের মতো বিষয়ে সরব হয়েছে তারা।

সমাজকর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজ দলের ইশতাহারে তথ্য জানার অধিকার, আইন মেনে চলা এবং গোপন অনুদান না নেওয়ার প্রস্তাব দেন। আরশোলা জনতা পার্টি জানিয়েছে, সেই সব প্রস্তাবও তারা গ্রহণ করেছে।

এই দল আদৌ আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল হবে, না কি শুধুই সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর রাজনৈতিক ব্যঙ্গ-তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে মাত্র দু’দিনেই যে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে আরশোলা জনতা পার্টি, তা নিয়ে সন্দেহ নেই!

AHA
আরও পড়ুন