সোমালিয়ার পুন্টল্যান্ড উপকূলে তুরস্কের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী একটি কার্গো জাহাজ জলদস্যুরা ছিনতাই করেছে। জাহাজটিতে থাকা ১০ জন ক্রুর মধ্যে ছয়জনই ভারতীয় নাগরিক। সোমালিয়ার এক কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ক্যামেরুনের পতাকাবাহী এমভি লুতুফ নামের জাহাজটি সোমবার পুন্টল্যান্ডের ইল জেলার মাররাইয়া এলাকার উপকূল থেকে প্রায় সাড়ে তিন নটিক্যাল মাইল দূরে জলদস্যুদের কবলে পড়ে। পরে অস্ত্রধারী আট জলদস্যু জাহাজটিকে নুগাল উপকূলের দিকে নিয়ে যায়।
সোমালিয়ার ওই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, জাহাজের ১০ সদস্যের ক্রুর মধ্যে ছয়জন ভারতীয়, একজন তুরস্কের নাগরিক, একজন জর্জিয়ার নাগরিক এবং দুইজন সার্বিয়ার নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। জাহাজটির মালিকানা পোলার মুভমেন্ট শিপিংয়ের।
জাহাজটিতে তুরস্কের অস্ত্র ছাড়াও যোগাযোগ ও স্যাটেলাইট সরঞ্জাম ছিল। এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতে তুরস্ক পরিচালিত একটি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নেওয়া হচ্ছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জলদস্যুরা জাহাজটি নিয়ে যাওয়ার পর তুরস্কের মালিকানাধীন দুটি জাহাজ ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যায়। পাশাপাশি তুরস্কের হেলিকপ্টার ও ড্রোন দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয় বলে সোমালিয়ার ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
এরপর মঙ্গলবার একটি ছোট নৌকা থেকে দুই ব্যক্তি ছিনতাই করা জাহাজের কাছে গিয়ে খাত নামের একটি উত্তেজক উদ্ভিদ পৌঁছে দেয়। নৌকাটি তীরে ফিরে যাওয়ার পর সেখানে একটি বিমান হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চারজন নিহত ও দুজন আহত হন বলে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে হামলাটি কারা চালিয়েছে এবং নিহতরা জলদস্যুদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
এদিকে জাহাজ, কার্গো এবং ক্রুদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তুরস্কের কর্তৃপক্ষও এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
সোমালিয়ার উপকূলে সাম্প্রতিক সময়ে জলদস্যুতার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে নাবিকদের নিরাপত্তা এবং পণ্যবাহী জাহাজের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নতুন এই ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছয় ভারতীয় নাবিকের নিরাপত্তা এখন বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইতিহাসের সবচেয়ে উত্তপ্ত বছর হতে যাচ্ছে ২০২৭
নাইজেরিয়ায় ভয়াবহ নৌকাডুবি, শিশুসহ নিহত ৫০