মক্কা চুক্তি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক: আহমেদ শরিফ

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের কোনো আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই এবং এটি কেবল যৌথ প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষার জন্য গঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী। পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে করা এই চুক্তি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আরবিয়া ইংলিশের গ্লোবাল নিউজ টুডে অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের কয়েক দশকের সম্পর্ককে যৌথ প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে আরও আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কোনো আগ্রাসী উপাদান নেই।

চৌধুরী বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের উদ্দেশ্য প্রতিরক্ষামূলক এবং এর কোনো আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। এটি যৌথ প্রতিরোধের কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে এই চুক্তি অন্য কোনো দেশের সঙ্গে জোটভুক্ত তিন দেশের বিদ্যমান সম্পর্কের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং পরিপূরক।

জোটের কোনো সদস্য আক্রান্ত হলে পাকিস্তান কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিরক্ষার কার্যকর পদ্ধতি বা পরিচালনাগত বিষয় প্রকাশ্যে জানানো হয় না। কীভাবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হবে, তা তিন দেশের সিদ্ধান্ত ও নিরাপত্তার আওতাভুক্ত বিষয়।

চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই জোট কোনো প্রতিযোগিতা তৈরি করবে কি না, এমন প্রশ্নেও চৌধুরী বলেন, এটি ইসলামাবাদ-বেইজিং সম্পর্কের পরিপূরক। তার ভাষ্য, পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরব ও তুরস্কের সম্পর্ক বহু পুরোনো এবং চীনও তা বোঝে। তিন দেশেরই চীনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে।

মক্কা প্রতিরক্ষা জোট কেবল মুসলিম দেশগুলোর জোট হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, চুক্তিতে এটিকে মুসলিম জোট হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাই এর ভিত্তি। অ-আগ্রাসন, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং যৌথ প্রতিরোধের নীতিতে বিশ্বাসী নতুন অংশীদারদেরও ভবিষ্যতে এই জোটে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের নেতৃত্ব।

গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, জোটের কোনো একটি সদস্যের ওপর হামলাকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে জোটটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য জোটের সচিবালয়ের দায়িত্ব পাকিস্তানকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন চৌধুরী। তিনি বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের সঙ্গে ইরানের বিষয়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার কোনো বিরোধ নেই। আঞ্চলিক শান্তির স্বার্থেই পাকিস্তান এ ভূমিকা পালন করছে। তার মতে, সব পক্ষের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততার নীতি দেশটিকে একজন নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখার সুযোগ দিয়েছে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন পাকিস্তানের এই সামরিক মুখপাত্র। তিনি বলেন, দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে সামরিক সংঘাত কাম্য নয়। একই সঙ্গে সমতার ভিত্তিতে যোগাযোগ ও সংলাপের পক্ষে পাকিস্তান। তিনি জানান, গত বছরের মে মাসের সংঘাতের সময় দুই দেশের সামরিক অভিযানের মহাপরিচালকদের মধ্যে যোগাযোগ কার্যকর ছিল এবং ভবিষ্যতেও সামরিক পর্যায়ে যোগাযোগ পুনরায় চালু করার সম্ভাবনা রয়েছে।

আফগানিস্তান প্রসঙ্গে চৌধুরী বলেন, পাকিস্তানের প্রধান লক্ষ্য হলো আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে কোনো হস্তক্ষেপ বা সন্ত্রাসী হামলা না হওয়া। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে আত্মরক্ষার অধিকার পাকিস্তানের রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। চলতি বছরে ৪২ হাজার গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান চালানো হয়েছে এবং এতে ২ হাজার ১০০ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে জানান তিনি।

বেলুচিস্তান প্রসঙ্গে চৌধুরী বলেন, সেখানে কোনো বিদ্রোহ নেই, বরং সন্ত্রাসবাদ রয়েছে। চলতি বছরের ৪২ হাজার গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযানের মধ্যে ৩২ হাজারের বেশি বেলুচিস্তানে পরিচালিত হয়েছে বলে জানান তিনি। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর পাশাপাশি বেলুচিস্তানের জনগণকে পাশে রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। সূত্র: ডন

এএস
আরও পড়ুন