খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার নীতি ঘোষণা করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেয়, তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হবে না।
রোববার (৮ নভেম্বর) পেশোয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কুন্দি বলেন, যারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি অভিযোগ করেন, ভারত ও ইসরায়েলের ইন্ধনে আফগানিস্তান সন্ত্রাসীদের সহায়তা দিচ্ছে; এমনকি আফগানিস্তান থেকে ড্রোনও পাঠানো হচ্ছে।
গভর্নর জানান, প্রদেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হবে এবং এতে রাজনৈতিক দায়বদ্ধতাও নিশ্চিত করা হবে। তিনি সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করাকে প্রাদেশিক সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রদেশের উন্নয়নের জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।
কুন্দি জানান, সন্ত্রাস দমনে সক্ষমতা বাড়াতে পুলিশ বাহিনীকে সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহায়তা ও আধুনিক অস্ত্র দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রাদেশিক পুলিশে বর্তমানে ১৭ হাজার জনবলের ঘাটতি রয়েছে এবং খুব দ্রুত এই শূন্যপদগুলো পূরণ করা হবে।
গভর্নর পাকিস্তানের আগের ‘পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ’ (পিটিআই) সরকারের সমালোচনা করে বলেন, তারা সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইকে গুরুত্ব দেয়নি এবং রাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ায়নি। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, তার প্রশাসন আগের সরকারের নেওয়া ইতিবাচক উদ্যোগগুলো অব্যাহত রাখবে।
কুন্দি দৃঢ় আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দেশ জয়ী হবে—কারণ এছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে প্রদেশের প্রাপ্য সম্পদ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
রাজনৈতিক বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম-ফজল (জেইউআই-এফ)-এর প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তিনি তার দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা সৃষ্টি করবেন না।
তিনি তাদের কঠোর সমালোচনা করেন, যারা অন্যদের সন্তানদের জিহাদে অংশ নিতে উৎসাহিত করে, অথচ নিজেদের সন্তানদের ইউরোপ বা তুরস্কে পাঠিয়ে দেওয়।
ইসরাইলকে অন্ধ সমর্থনেই রিপাবলিকানদের ভরাডুবি
৯০ বছরেও তরুণদের টেক্কা দিলেন জাপানিজ বডিবিল্ডার