আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দীর্ঘ ইতিহাসে দেড় শতাব্দী পার হয়ে গেলেও কখনো এমন দৃশ্য দেখা যায়নি—একই দলে মাঠে নামছেন বাবা ও ছেলে। সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে ফেলল তিমুর-লেস্তে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নবীন এই দেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলেই লিখে ফেলেছে এক অনন্য অধ্যায়।
৬ নভেম্বর ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে তিমুর-লেস্তের হয়ে একসঙ্গে মাঠে নামেন ৫০ বছর বয়সী সুহাইল সাত্তার এবং তার ১৭ বছর বয়সী ছেলে ইয়াহিয়া সাত্তার। এটাই ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবার—যখন কোনো বাবা ও ছেলে একসঙ্গে আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করছেন নিজেদের দেশকে।
তিমুর-লেস্তে বিশ্বের ১১১তম দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মানচিত্রে নাম লিখিয়েছে, আর প্রথম ম্যাচেই এমন অনন্য রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে তারা। ম্যাচে বাবার ভূমিকাই ছিল সবচেয়ে উজ্জ্বল। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১৫ বলে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন সুহাইল সাত্তার। পাঁচ নম্বরে নেমে ৬ বলে ১ রান করে রান আউট হন তার ছেলে ইয়াহিয়া। পুরো দল ৬১ রানে গুটিয়ে গেলেও ক্রিকেট দুনিয়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে তাদের পারিবারিক জুটি। পরে কোনো উইকেট না হারিয়েই মাত্র ৪ ওভারে জয় তুলে নেয় ইন্দোনেশিয়া।
মজার বিষয় হলো, এদিন শুধু একই ম্যাচেই নয়, বাবার সঙ্গে ব্যাটিং জুটিও গড়েছিলেন ইয়াহিয়া। ক্রিকেটে রক্তের সম্পর্কের এমন প্রতীকী দৃশ্য আগে দেখা গেছে ঘরোয়া পর্যায়ে, কিন্তু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটাই প্রথম।
নারী ক্রিকেটে অবশ্য এর আগেই মা–মেয়ের একসঙ্গে খেলার নজির রয়েছে। চলতি বছর সুইজারল্যান্ডের হয়ে একসঙ্গে ছয়টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন ৪৫ বছর বয়সী মেটি ফার্নান্দেজ ও তার ১৭ বছর বয়সী কন্যা নাইনা মেটি সাজু।
পুরুষ ক্রিকেটে পারিবারিক উপস্থিতির উদাহরণ সবচেয়ে আলোচিত ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের শিবনারাইন চন্দরপল ও তার ছেলে তেজনারাইনের। গায়ানার হয়ে তারা একসঙ্গে খেলেছেন ১১টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে। আবার সম্প্রতি আফগান ঘরোয়া লিগের ফাইনালে মাঠে মুখোমুখি হয়েছিলেন মোহাম্মদ নবী ও তার ছেলে হাসান ইসাখিল।
কিন্তু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন দৃশ্য এবারই প্রথম। একদিকে অর্ধশতাব্দী পেরোনো অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে কিশোর বয়সের উদ্যম—সুহাইল ও ইয়াহিয়ার যুগল উপস্থিতি যেন ক্রিকেটে প্রজন্মের মিলনের প্রতীক হয়ে উঠল।

