সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে আজ ছিল এক রৌদ্রোজ্জ্বল দুপুর, কিন্তু আলোটা যেন একটু বেশি ঝলমলে ছিল নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে। মাহমুদুল হাসান জয় ও মুমিনুল হক ফিরে যাওয়ার পর যে নিস্তব্ধতা নেমে এসেছিল, সেটি ভেঙে দিলেন অধিনায়কের ব্যাটের ঝংকারে। আর সেই ঝংকারেই বাংলাদেশ এগিয়ে গেল রানের পাহাড় গড়ার পথে।
দিনের শুরুতে জয় ফিরেছিলেন মাত্র ২ রান যোগ করে, শেষ হয়ে যায় ডাবল সেঞ্চুরির স্বপ্ন। তার কিছুক্ষণ পর মুমিনুলও ফিরলেন, তখন মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের রানের প্রবাহ হয়তো থেমে যাবে। কিন্তু ঠিক সেই সময় শান্ত ক্রিজে এসে দেখালেন কেন তাঁকে অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। শুরুটা ধৈর্য নিয়ে, তারপর আক্রমণাত্মক ঘরানায় রূপান্তর।
প্রথমে মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তুললেন ৭৯ রানের জুটি। মুশফিক ফিরলেও থামেননি শান্ত। এরপর লিটন দাসকে পাশে পেয়ে আরও গতিময় হয়ে ওঠে তার ইনিংস। লিটন ৬৬ বলে ৬০ রান করে ফিরলেও, শান্ত তখন ইতিহাস ছোঁয়ার পথে।
অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনের ১২৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে দুটি রান নিয়ে স্পর্শ করেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক সংখ্যা। সেটি ছিল তাঁর অষ্টম টেস্ট সেঞ্চুরি, আর অধিনায়ক হিসেবে চতুর্থ-মুশফিকুর রহিমের পাশে নাম লেখানোর মুহূর্ত। কিন্তু ভাগ্য একটু নির্মম ছিল, পরের বলেই এলবিডব্লু হয়ে থেমে যায় তাঁর ইনিংস। ১১৪ বলে ১৪ চারে সাজানো ১০০ রানের ইনিংসটি হয়ে রইল যেন সিলেটের দুপুরের এক অপূর্ব স্মৃতি।
তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশন শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৫৭৫/৭। ২৮৯ রানের বিশাল লিডে টাইগাররা এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। হাসান মুরাদ ও হাসান মাহমুদ অপরাজিত থেকে দিনের খেলা শেষ করেছেন, আর গ্যালারিতে তখন উল্লাসে মুখর লাল-সবুজের সমুদ্র।
বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটে ৫০০ ছাড়ানো ইনিংসের ইতিহাসে খুব কম মুহূর্ত আছে, আজ তার আরেকটি অধ্যায় যোগ হলো সিলেটের মাটিতে। ২০১৩ সালের গলে ৬৩৮ ও ২০১৭ সালে ওয়েলিংটনের ৫৯৫ রানের পর এবার সিলেটে ৫৭৫, যার কেন্দ্রে নাজমুল হোসেন শান্তর জোছনামাখা সেঞ্চুরি।

