হলফনামায় এনসিপি নেতাদের কার কত সম্পদ

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৬ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মনোনয়নপত্র জমা কার্যক্রম শেষে প্রার্থীদের কার কি পরিমাণ সম্পত্তি ও নগদ অর্থ রয়েছে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আলোচিত প্রার্থী আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেনে, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে সম্পত্তি ও নগদ অর্থের পরিমাণে এগিয়ে আছেন হান্নান মাসউদ। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

নাহিদ ইসলাম
এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসন থেকে লড়ছেন। ২৭ বছর বয়সি এই নেতা নিজেকে ‘পরামর্শক’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তার কোনো স্থাবর সম্পদ না থাকলেও ৩২ লাখ টাকার বেশি অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টার বার্ষিক আয় ১৬ লাখ টাকা। বিপরীতে ৩ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ থাকলেও তার ও তার স্ত্রীর মিলে প্রায় ১৮ লাখ টাকার অলংকার রয়েছে।

আখতার হোসেন
দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন রংপুর-৪ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শিক্ষানবিশ এই আইনজীবীর নিজের ও স্ত্রীর মিলে মোট ৪৩ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। স্থাবর সম্পদ হিসেবে ১৮ শতাংশ কৃষি জমি থাকলেও তার নগদ অর্থের পরিমাণ ১৩ লাখ টাকা।

হান্নান মাসুদ
নোয়াখালী-৬ আসনে প্রার্থী হওয়া এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসুদের সম্পদ নিয়ে ব্যাপক কৌতুহল তৈরি হয়েছে। একই আসনে তার বাবা আমিরুল ইসলামও প্রার্থী হয়েছেন। দেখা গেছে, হান্নানের কাছে থাকা নগদ ৩৫ লাখ টাকা তার বাবার সম্পদের চেয়ে ১৮ গুণ বেশি। নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এই তরুণ নেতার বাৎসরিক আয় ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

হাসনাত আবদুল্লাহ
কুমিল্লা-৪ আসনের প্রার্থী ও দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর মোট সম্পদের পরিমাণ ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ব্যাংকেই রয়েছে ২৬ লাখ টাকার স্বর্ণ এবং সাড়ে ১৩ লাখ টাকা নগদ। তবে হলফনামায় তিনি নিজের নামে কোনো বাড়ি বা গাড়ির তথ্য দেননি।

সারজিস আলম
পঞ্চগড়-১ আসন থেকে লড়ছেন সারজিস আলম। ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন তিনি। তার বার্ষিক আয় ৯ লাখ টাকা। হলফনামায় দেখা যায়, তার নামে থাকা ১৬ শতাংশ কৃষি জমির দাম কয়েক বছরের ব্যবধানে ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

মো. রাশেল উল আলম
সিলেটের তিনটি আসনে এনসিপির প্রার্থীরা উচ্চশিক্ষিত এবং তাদের বড় একটি অংশ প্রবাসী। সিলেট-৪ আসনের প্রার্থী মো. রাশেল উল আলম পেশায় আইটি ডেভেলপার। তিনি এই তালিকায় সবচেয়ে বিত্তবান। তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য প্রায় ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। তার বার্ষিক আয় দেশে ৪৮ লাখ এবং বিদেশে ৬২ লাখ টাকা।

সিলেট-১ আসনে এহতেশামুল হক ও সিলেট-৩ আসনে ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদের হলফনামাতেও লাখ লাখ টাকার সম্পদের হিসাব পাওয়া গেছে। এদের অধিকাংশেরই আয়ের বড় একটি উৎস প্রবাস থেকে আসা অর্থ।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তার স্ত্রীর রয়েছে ২২ লাখ টাকার স্বর্ণ এবং ২৫ লাখ টাকা নগদ। অন্যদিকে, এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া তাসনিম জারা ১৯ লাখ টাকার সম্পদের হিসাব দিয়েছেন।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, নতুন রাজনৈতিক দলের এই তরুণ নেতাদের হলফনামায় প্রদর্শিত সম্পদ তাদের জীবনযাত্রার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে হলফনামায় ভুল বা অসত্য তথ্য প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী তাদের সদস্যপদ বাতিলের ঝুঁকি রয়েছে।

DR/AHA
আরও পড়ুন