বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি যুগের কিংবদন্তি অভিনেতা ও নৃত্য পরিচালক ইলিয়াস জাভেদ দীর্ঘকাল ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে গত ২১ জানুয়ারি তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বর্ণিল ক্যারিয়ারে শতাধিক কালজয়ী সিনেমা উপহার দিলেও জীবদ্দশায় মেলেনি কোনো রাষ্ট্রীয় সম্মাননা বা জাতীয় স্বীকৃতি। স্বামীর এই অবমূল্যায়নে ক্ষোভ প্রকাশ করে সব ধরনের মরণোত্তর সম্মাননা প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছেন জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী।
জাভেদের মৃত্যুর পর শোকাতুর ডলি চৌধুরী এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘জীবিত অবস্থায় যদি তার মূল্যায়ন না করা হয়, তবে চলে যাওয়ার পর এসব সম্মাননা দিয়ে কী হবে? প্রায় ৫৫ বছর ধরে এই ইন্ডাস্ট্রির জন্য তিনি নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছেন। এখন তিনি নেই, আমি এসব মরণোত্তর স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যান করছি। জাভেদের জন্য আমি শুধু সবার দোয়া চাই।’
রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস, যিনি বড় পর্দায় ‘জাভেদ’ নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন। জন্মসূত্রে পাকিস্তানি হলেও নায়ক হওয়ার নেশায় ষাটের দশকে বাংলাদেশে পাড়ি জমান তিনি। উর্দু সিনেমা ‘পায়েল’-এর মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে পরে বাংলা সিনেমায় স্থায়ী হন। নৃত্য পরিচালক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও দ্রুতই জনপ্রিয় নায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তার অভিনীত ‘মালেকা বানু’, ‘নিশান’, ‘পাপী শত্রু’, ‘রক্ত শপথ’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’ এবং ‘রসের বাইদানী’র মতো চলচ্চিত্রগুলো বাংলা সিনেমার ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে আছে।
শুটিং সেটে ডলি চৌধুরীর সঙ্গে পরিচয় ও প্রেম, যা পরে ৪২ বছরের এক সুখী দাম্পত্যে রূপ নেয়। জাভেদের মৃত্যুর মাধ্যমে সেই দীর্ঘ পথচলার অবসান ঘটল। জীবনের শেষ দিনগুলোতে অনেকটা নিভৃতেই সময় কাটিয়েছেন এই অভিনেতা।
জাভেদের প্রয়াণে চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী ও ভক্তরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। তবে তার স্ত্রীর তোলা ‘যোগ্য সম্মানের অভাব’ শীর্ষক প্রশ্নটি চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মনে নতুন করে দাগ কেটেছে।
অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ আর নেই
