চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, আহত ১৪

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১৫ এএম

চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত-বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। এতে উভয়পক্ষের ১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের জুগিরহুদা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি আহত বিএনপির সমর্থকরা হলেন- জুগিরহুদা গ্রামের হাসিবুল ইসলামের ছেলে মানিক মিয়া (৩৬), একই গ্রামের মানিকের স্ত্রী মুক্তি খাতুন মুক্তা (৩৫), মতিয়ার রহমানের ছেলে রাকিব (১৯), শামিমের স্ত্রী রিক্তা খাতুন (২৬), মৃত. শুকুর আলীর ছেলে হায়দার আলী বিশ্বাস (৬২), বজলুর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান (৫৫), মুসছুর আলীর ছেলে আসাদুল হক (৫২), হাফিজুরের মেয়ে রেমনি খাতুন (২০) ও হাসিবুল হক বিশ্বাসের ছেলে আরাফাত আলী (২৪)।

এ ঘটনায় বিএনপির আহত নেতাকর্মীদের দেখতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ছুটে আসেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ।

এসময় শরীফুজ্জামান শরীফ সাংবাদিকদের বলেন, খবর পেয়ে আমি আমার নেতাকর্মীদের দেখতে হাসপাতালে এসেছি। মূলত, এটি পরিকল্পিতভাবে হামলা করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় আমাদের নারীকর্মীসহ নয়জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমাদের নেতাকর্মীরা কোনো সংঘাতে জড়াইনি। জামায়াত ইসলামির লোকজন অতর্কিত হামলা করেছে। আমি এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। একইসাথে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এই ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী দায়ি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

অন্যদিকে, জামায়াত ইসলামীর পাঁচজন নেতাকর্মী আহত হয়ে আলমডাঙ্গার উপজেলা হারদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন বলে জানা গেছে।

আহত জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা হলেন- ওল্টু, মাসুদ, বাদশা, আরিফুল ও ইমরান। তবে এই পাঁচজনের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জামায়াতে ইসলামীর পাঁচজন সমর্থক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছ চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেন বলেন, আমাদের কর্মী-সমর্থকরা ভোটের প্রচারণায় ছিল। এসময় বিএনপির সমর্থকেরা তাদের উপর হামলা চালায়। আমাদের দুটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। এবং মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাদেরকে উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং এর মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেছেন চিকিৎসক।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: আফরিনা ইসলাম বলেন, বিকেল আনুমানিক ৫টার পর আহত অবস্থায় নয়জন জরুরি বিভাগে আসেন। তাদের প্রত্যেকের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় মো: ইসমাইল হোসেন বলেন, ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলে জেনেছি। এর থেকে বেশি কিছু আমি জানি না।

এ বিষয়ে জানতে আলমডাঙ্গা মো: বানী ইসরাইল বলেন, ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

HN
আরও পড়ুন