রমজানের শেষ দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো ইতিকাফ। মহানবী (সা.) মদিনায় হিজরতের পর জীবদ্দশায় কখনো রমজানের শেষ ১০ দিনের ইতিকাফ ত্যাগ করেননি। এই ইবাদত পালনের প্রধান শর্ত হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মসজিদে অবস্থান করা। তবে ইতিকাফ চলাকালীন মসজিদের ছাদে যাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে।
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, ইতিকাফকারী ব্যক্তি মসজিদের সীমানার ভেতরে প্রয়োজনীয় হাঁটাচলা করতে পারেন। ইবাদতের ফাঁকে চাইলে তিনি মসজিদের ছাদেও যেতে পারবেন, তবে এখানে একটি বিশেষ শর্ত রয়েছে।
শর্তটি হলো মসজিদের ছাদে যাওয়ার সিঁড়িটি অবশ্যই মসজিদের মূল সীমানার ভেতরে হতে হবে। যদি সিঁড়ি মসজিদের ভেতরে থাকে, তবে ছাদে যাওয়া বৈধ এবং এতে ইতিকাফের কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু যদি সিঁড়ি মসজিদের বাইরে হয়, তবে সেই সিঁড়ি ব্যবহার করে ছাদে উঠলে ইতিকাফ ভেঙে যাবে। কারণ, ইতিকাফকারী ব্যক্তি শরিয়তসম্মত প্রয়োজন (যেমন- প্রস্রাব, পায়খানা বা জুমার নামাজ) ছাড়া মসজিদের সীমানার বাইরে যেতে পারেন না।
রমজানের শেষ ১০ দিনের ইতিকাফ হলো ‘সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়া’। অর্থাৎ, মহল্লার অন্তত একজন ব্যক্তি এটি আদায় করলে পুরো এলাকাবাসী দায়মুক্ত হবে। কিন্তু কেউ আদায় না করলে সবাই গুনাহগার হবে।
হাদিস শরিফে এসেছে, নবীজি (সা.) বলেছেন ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসের শেষ দশদিন ইতিকাফ করবে, তাকে দুটি হজ ও দুটি ওমরাহ পালন করার সওয়াব দান করা হবে।’ (শুয়াবুল ঈমান)। পবিত্র কোরআনের সূরা বাকারার ১২৫ নম্বর আয়াতেও আল্লাহ তায়ালা ইতিকাফকারীদের জন্য ঘর পবিত্র রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
তাই ইতিকাফের সময় অহেতুক কথাবার্তা এড়িয়ে সার্বক্ষণিক ইবাদতে মশগুল থাকা এবং মসজিদের সীমানা ও ছাদে যাওয়ার নিয়মগুলো সঠিকভাবে মেনে চলা জরুরি।
আল-আকসায় জুমার নামাজ আদায়ে ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা
যাকাত সম্পর্কিত জরুরি ১০ প্রশ্নের উত্তর 
