ভারতে কিশোর-কিশোরীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জোটসঙ্গী তেলুগু দেশম পার্টির (টিডিপি) এক সংসদ সদস্য এ বিষয়ে একটি বিল উত্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন।
বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে যখন বিতর্ক তীব্র হচ্ছে, তখন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ব্যবহারকারী বাজার ভারতে এই প্রস্তাব নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
টিডিপির সংসদ সদস্য এলএসকে দেবারায়ালু শুক্রবার রয়টার্সকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত আসক্ত হয়ে পড়ছে দেশের শিশুরা। একই সঙ্গে ভারত বিদেশি প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য বিপুল পরিমাণ তথ্যের উৎসে পরিণত হয়েছে। তার অভিযোগ, এই তথ্য ব্যবহার করে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবস্থা তৈরি করছে, কিন্তু এর কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে অন্য দেশগুলো।
দেবারায়ালুর প্রস্তাবিত ১৫ পৃষ্ঠার ‘সোশ্যাল মিডিয়া (এজ রেস্ট্রিকশনস অ্যান্ড অনলাইন সেফটি) বিল’-এ বলা হয়েছে, ১৬ বছরের কম বয়সীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো অ্যাকাউন্ট খুলতে, রাখতে বা ব্যবহার করতে পারবে না।
এই বিধি লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করার বিধানও রাখা হয়েছে। বিলটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে রয়টার্স এর একটি কপি পর্যালোচনা করেছে।
বিলে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। দেবারায়ালু বলেন, বয়স যাচাইয়ের দায়িত্ব ব্যবহারকারীর নয়, কোম্পানিগুলোকেই তা নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করে প্রথম দেশ হিসেবে এমন সিদ্ধান্ত নেয়।
ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদও ১৫ বছরের কম বয়সীদের ওপর নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। একই ধরনের নীতিগত আলোচনা চলছে যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক ও গ্রিসে।
এ বিষয়ে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা, ইউটিউবের মালিক অ্যালফাবেট এবং এক্স কর্তৃপক্ষ মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। মেটা এর আগে জানিয়েছিল, তারা অভিভাবক তত্ত্বাবধানভিত্তিক আইন সমর্থন করে; তবে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে কিশোররা আরও ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিয়ন্ত্রিত প্ল্যাটফর্মে চলে যেতে পারে।
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। বর্তমানে ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ন্যূনতম বয়সসীমা নির্ধারিত নেই।
দেশটিতে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন স্মার্টফোন ব্যবহারকারী এবং প্রায় এক বিলিয়ন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর জন্য একটি বিশাল বাজার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেবারায়ালুর উত্থাপিত বিলটি একটি প্রাইভেট মেম্বারস বিল। অর্থাৎ এটি সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আনা হয়নি। তবে এ ধরনের বিল সংসদে আলোচনা সৃষ্টি করে ভবিষ্যৎ আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
তেলুগু দেশম পার্টি বর্তমানে অন্ধ্র প্রদেশের ক্ষমতাসীন দল এবং মোদি সরকারের জোট রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
৭ বিপদ আসার আগে দ্রুত আমল করতে বলা হয়েছে
