বিশ্বের প্রভাবশালী রাজনীতিবীদ, ব্যবসায়ী এবং তারকাদের নাম জড়িয়ে থাকা 'এপস্টাইন ফাইল' বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে চর্চিত। আমেরিকার বিতর্কিত ধনকুবের জেফরি এপস্টাইনের যৌন পাচার চক্র সংক্রান্ত হাজার হাজার পাতার আইনি নথি জনসমক্ষে আসতেই বেরিয়ে আসছে ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের পর্দার অন্তরালের সব চাঞ্চল্যকর তথ্য।
এপস্টাইন ফাইল কী?
জেফরি এপস্টাইন ছিলেন একজন মার্কিন বিলিয়নেয়ার, যার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচার এবং যৌন নির্যাতনের একটি আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগ ছিল। ২০০৫ সাল থেকে তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলেও ২০১৯ সালে জেলখানায় তার রহস্যজনক আত্মহত্যার পর মামলাটি নতুন মোড় নেয়।
'এপস্টাইন ফাইল' হলো সেই সব মামলার আইনি নথিপত্র, যেখানে ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি, সাক্ষীর তালিকা এবং এপস্টাইনের সাথে যোগাযোগ রাখা ব্যক্তিদের নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে। আদালতের নির্দেশে এই গোপন নথিপত্রগুলো সম্প্রতি ধাপে ধাপে প্রকাশ করা হচ্ছে।

কেন এটি নিয়ে তীব্র বিতর্ক?
এই ফাইলগুলো নিয়ে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বের হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিদের নাম। এপস্টাইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে বা তার বিমানে যাতায়াতকারী ব্যক্তিদের তালিকায় প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য এবং প্রখ্যাত বিজ্ঞানীদের নাম উঠে এসেছে। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে, এই প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কি কেবল পরিচিত ছিলেন নাকি এই পাচার চক্রের অন্ধকার দিক সম্পর্কেও অবগত ছিলেন? মূলত বিশ্বের ক্ষমতা কাঠামোর শীর্ষে থাকা ব্যক্তিদের নৈতিকতা ও অপরাধের সংশ্লিষ্টতা এই ফাইলগুলোর মাধ্যমে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
ফাইলে নাম থাকা হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিরা
ফাইলগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট অপরাধে সরাসরি অভিযুক্ত না হলেও রেফারেন্স হিসেবে এসেছে অনেক বড় নাম। এর মধ্যে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের নাম বারবার আলোচনায় এসেছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ব্রিটেনের প্রিন্স অ্যান্ড্রু। ভুক্তভোগী ভার্জিনিয়া জুফ্রে সরাসরি তার বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনেছিলেন, যার প্রেক্ষিতে রাজকীয় এই সদস্যকে তার সামরিক উপাধি ও রাজকীয় দায়িত্ব ছাড়তে হয়েছে। এছাড়াও স্টিফেন হকিং এবং ডেভিড কপারফিল্ডের মতো ব্যক্তিত্বদের নামও নথিতে পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনের গুরুত্ব ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
এপস্টাইন ফাইল প্রকাশ হওয়াকে বিচারব্যবস্থার এক বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘকাল ধরে প্রভাবশালীরা অর্থের জোরে যেসব তথ্য গোপন রেখেছিলেন, তা আজ প্রকাশ্যে। যদিও ফাইলে নাম থাকা মানেই সবাই অপরাধী নয়, তবে এটি প্রমাণ করে যে অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, সত্য একদিন সামনে আসবেই। এই ফাইলগুলো প্রকাশের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে যৌন পাচার বিরোধী আন্দোলন আরও বেগবান হয়েছে এবং শিশুদের সুরক্ষায় নতুন করে আইনি বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এপস্টেইন ইস্যুতে সাক্ষ্য দিতে রাজি সাবেক প্রেসিডেন্ট
