১০ দিনের মধ্যে চুক্তি না হলে ইরানে হামলার হুমকি ট্রাম্পের

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম

ইরানের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর হুঙ্কার দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে তেহরানের হাতে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় আছে। এই সময়ের মধ্যে কোনো চুক্তিতে না পৌঁছালে ইরানকে ফের সামরিক হামলার মুখে পড়তে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটন ডিসিতে ‘বোর্ড অব পিস’-এর উদ্বোধনী সভায় দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প এ হুঁশিয়ারি দেন।

ট্রাম্প দাবি করেন, গত বছরের (২০২৫) জুনে ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা গাজায় ‘যুদ্ধবিরতি’র পথ প্রশস্ত করেছিল। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় সেই হামলা না হলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো শান্তির পথে আসত না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের একটি অর্থবহ চুক্তি করতে হবে। অন্যথায় খারাপ কিছু ঘটবে। আমরা হয়তো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাব, আপনারা আগামী ১০ দিনের মধ্যেই তা জানতে পারবেন।’

ট্রাম্পের এই হুমকির মাত্র কয়েক দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার জেনেভায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছিলেন, আলোচনায় ‘ভালো অগ্রগতি’ হয়েছে এবং দুই পক্ষ একটি চুক্তির মূলনীতিতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে।

তবে আলোচনার পরিবেশ বজায় থাকলেও উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে ওয়াশিংটন। ইতোমধ্যে সেখানে দুটি বিমানবাহী রণতরী এবং কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে।

ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করতে এবং আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের কঠোর নজরদারির সুযোগ দিতে রাজি রয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের যেকোনো ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিরোধী। এছাড়া ওয়াশিংটন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতেও লাগাম টানতে চায়, যা মানতে নারাজ তেহরান। ইরান এই ইস্যুটিকে তাদের প্রতিরক্ষা নীতির ‘অমীমাংসিত’ অংশ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

ট্রাম্পের হুমকির জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘আমেরিকানরা সবসময় বলে তারা রণতরী পাঠাচ্ছে। নিঃসন্দেহে রণতরী একটি বিপজ্জনক সামরিক যান। তবে সেই রণতরীকে সাগরের তলায় পাঠিয়ে দেওয়ার মতো অস্ত্র যে আরও বেশি বিপজ্জনক, তা তাদের মনে রাখা উচিত।’

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে নিজের প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প ইরানের পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে একতরফাভাবে সরিয়ে নিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে দুই দেশের উত্তেজনা ফের চরমে পৌঁছায়।

DR
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত