চোর ধরা নিয়ে পুলিশ-গ্রামবাসীর সংঘর্ষে আহত ২৬, নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৩ এএম

লক্ষ্মীপুরে অটোরিকশা চোর চক্রের সদস্যদের আটক করাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও গ্রামবাসীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৪ পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২৬ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী লক্ষ্মীপুর-রায়পুর আঞ্চলিক সড়ক প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও ডিবি পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হয়।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নে এই লঙ্কাকাণ্ড ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সোনাপুর ইউনিয়নের হায়দর আলী ব্যাপারী বাড়ির শাহ আলম তাঁর অটোরিকশাটি রাস্তার ওপর রেখে ইফতার করতে যান। কয়েক মিনিটের মধ্যেই গাড়িটি চুরি হয়ে যায়। শাহ আলম তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়দের সহায়তায় তল্লাশি চালিয়ে ৪ জন সন্দেহভাজন চোরকে আটক করেন। অটোরিকশাটি উদ্ধার করা সম্ভব হলেও চোর চক্রের সদস্যরা গাড়ির ব্যাটারিগুলো আগেই অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছিল। ব্যাটারির হদিস পেতে গ্রামবাসী আটককৃতদের একটি বাড়িতে নিয়ে মারধর করতে থাকে।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে রায়পুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক ৪ ব্যক্তিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে গ্রামবাসী দাবি তোলে, ব্যাটারি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত চোরদের ছাড়া হবে না। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। গ্রামবাসীর ইটপাটকেলের আঘাতে রায়পুর থানার এসআই মোতালেব, কনস্টেবল শওকত, মঞ্জুর ও জাহিদ গুরুতর আহত হন। 

অন্যদিকে পুলিশের লাঠিচার্জ ও সংঘর্ষে অন্তত ২২ জন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যদের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার পর গ্রামবাসী আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। রাত ১০টার দিকে তারা লক্ষ্মীপুর-রায়পুর আঞ্চলিক সড়কের চৈতাইল্যা দিঘির পাড় এলাকায় অবস্থান নেয়। সেখানে রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ও বাঁশ ফেলে এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়। এতে সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে শত শত যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরে রাত দেড়টার দিকে সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং সড়ক থেকে অবরোধ সরিয়ে দেয়।

অটোরিকশা চালক শাহ আলম বলেন, ‘আমরা কষ্ট করে চোর ধরেছি ব্যাটারি উদ্ধারের জন্য। কিন্তু পুলিশ এসে আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের নিয়ে যেতে চায়। এতে আমাদের ১৫-১৬ জন মানুষ আহত হয়েছে।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, ‘৯৯৯-এ কল পেয়ে আমাদের টিম ৪ জনকে গণপিটুনি থেকে বাঁচাতে গিয়েছিল। কিন্তু গ্রামবাসী ভুল বুঝে পেছন থেকে পুলিশের ওপর হামলা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে আমাদের ৪ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে ৪ অভিযুক্ত চোর পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। রিকশা চুরির ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

DR
আরও পড়ুন