স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ আরও তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের করা আবেদনটি পর্যালোচনার জন্য গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ। বাংলাদেশ যে সব কারণ দেখিয়ে উত্তরণ পেছানোর কথা বলেছে, চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এখন সেগুলো নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখবে সংস্থাটির বিশেষায়িত কমিটি।
নিউইয়র্কে শুরু হওয়া জাতিসংঘের ‘কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি’র (সিডিপি) পাঁচ দিনব্যাপী বৈঠকে এই আবেদনটি পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিডিপি সদস্য এবং এর এনহ্যান্সড মনিটরিং মেকানিজম (ইএমএম) উপকমিটির প্রধান দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জানান, সিডিপি আবেদনটি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তবে আবেদনটি পর্যালোচনার জন্য গ্রহণ করার অর্থ এই নয় যে উত্তরণ পেছানোর বিষয়টি অনুমোদিত হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘সিডিপি প্রথমে সরকারের উত্থাপিত যুক্তিগুলো যাচাই করবে। এরপর তারা তাদের সুপারিশ জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে (ইকোসক) পাঠাবে। সেখান থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিষয়টি যাবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে।’ এই পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
বর্তমান সূচি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের কথা রয়েছে। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই এই উত্তরণ ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানায়। ১৮ ফেব্রুয়ারি সিডিপি’র কাছে পাঠানো চিঠিতে বাংলাদেশ উল্লেখ করেছে, উত্তরণের শর্তগুলো পূরণ হলেও বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা ধাক্কায় প্রস্তুতি ব্যাহত হয়েছে।
চিঠিতে বৈশ্বিক কারণ হিসেবে কোভিড মহামারীর প্রভাব, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধীরগতির কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ কারণ হিসেবে আর্থিক খাতের অনিয়ম, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তন এবং রোহিঙ্গা সংকটের চাপের কথা জানানো হয়েছে। এসব কারণে সামষ্টিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে সরকার।
উত্তরণ পরবর্তী সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পাল্টা শুল্কারোপের ঝুঁকি নিয়েও সরকার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইএমএমের অধীনে সংকট মোকাবিলা বিধানটি ব্যবহার করে বাংলাদেশ তার অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে অতিরিক্ত তিন বছর সময় চেয়েছে। সিডিপি এখন খতিয়ে দেখবে যে, বাংলাদেশের এই সংকটগুলো সত্যিই ‘অপ্রত্যাশিত ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ কি না।
এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পেছাতে জাতিসংঘে বাংলাদেশের আবেদন
