ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের মান উন্নত করা হয়েছে : বিপাকে মার্কিন বাহিনী

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ১২:৩০ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের একের পর এক হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের গভীর উদ্বেগে পড়েছে। তেহরানের উন্নত প্রযুক্তির নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম এসব ক্ষেপণাস্ত্র রুখতে না পেরে বড় ধরনের 'ঝুঁকি' আর সংকটে পড়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

পাকিস্তানি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস বুধবার (২২ জুলাই) জানায়, যখনই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে, তখনই মার্কিন ও তাদের মিত্রদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যর্থ হচ্ছে। হয় তারা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে দেরি করছে, না হয় মাঝপথে ফেলে দিতে পারছে না। সম্প্রতি জর্দানের মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে ইরানের প্রাণঘাতী হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত ও একজন নিখোঁজ হন। জর্দান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দেয়াল ভেদ করে বারবার সেখানে হামলা চালায় ইরান। ওই ঘাঁটিটি তার আগের ৪৮ ঘণ্টায় আরো দুবার সরাসরি আঘাতের শিকার হয়। এই হামলায় আরো কয়েক ডজন মার্কিন সদস্য আহত হয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আক্ষেপ করে বলেছেন, 'একটা ক্ষেপণাস্ত্র ঠিকই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে বের হয়ে গেছে। আমরা প্রায় সবগুলোই ধ্বংস করতে পেরেছিলাম, কিন্তু একটি শেষ রক্ষা করেনি। খবরটি হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়।' প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও মার্কিন সরঞ্জামকে সেরা দাবি করে জর্দানের ব্যর্থতার দায় 'অন্য পরিচালনকারীদের' ঘাড়ে ঠেলেছেন। তবে এই মাসে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানি হামলায় ১০০ জনেরও বেশি মার্কিন সদস্য আহত হওয়ার কথা শেষপর্যন্ত স্বীকার করেছে পেন্টাগন।

 

জর্দানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসিদ মাহমুদ জানান, ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের মান অনেক বাড়িয়ে ফেলেছে। রাডারকে বিভ্রান্ত করতে তারা প্রথমে সাধারণ ড্রোন ও রকেট ছোড়ে। এরপর শেষ ৩০ বা ৪০ কিলোমিটারে পথ বদলে ফেলা উন্নত প্রযুক্তির গতিশীল ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোটি কোটি ডলারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করে দিচ্ছে।

HN
আরও পড়ুন