স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) টেকসই উন্নয়ন ও সুষ্ঠু উত্তরণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি পাঁচ সুপারিশ তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও জোর দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) হাই-লেভেল সেগমেন্টের সাধারণ বিতর্কে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে এলডিসিগুলোর জন্য বিশেষ আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা জরুরি।’
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, কোভিড পরবর্তী অর্থনৈতিক চাপ, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, ঋণসংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এলডিসিগুলোর উন্নয়নকে কঠিন করে তুলেছে। ফলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং দোহা কর্মসূচির লক্ষ্য অর্জনও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত পাঁচ দফা প্রস্তাবে প্রথমেই স্বল্প সুদে ও পর্যাপ্ত উন্নয়ন অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষার মতো উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সহজ শর্তে অর্থায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
দ্বিতীয় প্রস্তাবে ঋণঝুঁকিতে থাকা এলডিসিগুলোর জন্য সহজ শর্তে ঋণ, ঋণ পরিশোধে স্থগিত সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই ঋণ সমাধানের ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়।
তৃতীয় প্রস্তাবে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় অভিযোজন তহবিল, জ্বালানি রূপান্তর এবং ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’-এ সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়, যাতে জলবায়ু অর্থায়ন আরো সহজলভ্য ও পূর্বানুমানযোগ্য হয়।
এ ছাড়া, এলডিসিগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ, শুল্ক সুবিধা অব্যাহত রাখা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ডিজিটাল রূপান্তরে উন্নত দেশগুলোর আরো কার্যকর সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় বাংলাদেশ উল্লেখ করে, বর্তমানে ১৪টি এলডিসি দেশ উত্তরণের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। তবে, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের কারণে বাংলাদেশ ও নেপালের জন্য এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরো তিন বছর বাড়ানো প্রয়োজন। এ অতিরিক্ত সময় সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, সুষ্ঠু উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে বলে মত দেয় বাংলাদেশ।
এদিকে, এলডিসি উত্তরণ ও বাণিজ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নিতে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছেন। তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদুল হাসান খান এবং ফুটওয়্যার, লেদার গুডস অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলা এ সফরে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি, নেপাল ও উরুগুয়ের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক করবে। এসব বৈঠকে এলডিসি-পরবর্তী বাণিজ্য সুবিধা, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
পরিবহন ও লজিস্টিকস খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি
আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা