ইরানের ড্রোন হামলার জেরে কাতারে গ্যাস উৎপাদন বন্ধ

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটি ক্ষোভে ফুঁসছে। ইরান ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে।

এছাড়াও, ইরানের প্রতিশোধ কাতারেও পৌঁছেছে। সোমবার (২ মার্চ) কাতারের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পেট্রোলিয়াম কোম্পানি কাতারএনার্জি জানিয়েছে, ইরানি ড্রোন হামলায় তাদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হয়েছে। এতে রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি এবং মেসাইদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি-র উৎপাদন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার ফলে কাতারএনার্জি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মেসাইদ এলাকার একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানির ট্যাংকে একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে, আর রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে কাতারএনার্জির জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং লোকসান নিরূপণ প্রক্রিয়াধীন।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ কাতার ও বিশ্বের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর মধ্যে কাতারএনার্জি হওয়ায়, হামলার প্রভাব বিশ্ব বাজারেও বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এর আগে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার ব্যর্থতার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে হামলা চালায় ইরানের ওপর, যার ফলে খামেনি নিহত হন। মৃত্যুর পর ইরানে ৪০ দিনের গণশোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

খামেনির মৃত্যু হলেও ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার ধারা অব্যাহত আছে। ইতোমধ্যেই ৫৫৫ জন নিহত এবং ১৩১টি ইরানি কাউন্টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তথ্য দিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।

তবে ইরান প্রতিশোধে থেমে নেই। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রোববার (১ মার্চ) এক ভাষণে বলেছেন, 'এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বৈধ অধিকার এবং পবিত্র দায়িত্ব। ইরান তার কাছে থাকা সমস্ত শক্তি ও সামর্থ্য ব্যবহার করবে।'

তারা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলো- যেমন সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সাইপ্রাস- এগুলোর আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি হামলার পরিসর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এই সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বেসামরিক ও সামরিক অবকাঠামোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দোহার বিমানবন্দর, কুয়েতের আকাশসীমা এবং অন্যান্য প্রধান আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে ফ্লাইটে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনা ক্রমেই আন্তর্জাতিক আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

AS
আরও পড়ুন