ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির মনোনয়ন ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও চুলচেরা বিশ্লেষণের জন্ম দিয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ইরানের পরবর্তী নেতা হিসেবে যাকেই মনোনীত করা হোক না কেন, তিনি যদি 'ইসরায়েল ধ্বংসের' নীতি অনুসরণ করেন, তবে তিনি নিশ্চিতভাবেই ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবেন।
কাটজ স্পষ্ট করে বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম কী কিংবা তিনি কোথায় লুকিয়ে আছেন, তা ইসরায়েলের কাছে কোনো গুরুত্ব বহন করবে না।
অনুরূপ সুর শোনা গেছে, নেসেট স্পিকার আমির ওহানার কণ্ঠেও। তিনি মন্তব্য করে বলেছেন, কেবল ব্যক্তি পরিবর্তন করলেই ইরান শাসনের মৌলিক চরিত্রের কোনো বদল হবে না। তাই নতুন নেতৃত্বের সঙ্গেও ইসরায়েল আগের মতোই কঠোর আচরণ করবে।
ইসরায়েলি নেতাদের এই প্রকাশ্য বক্তব্য থেকে এটি পরিষ্কার যে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুযোগ পেলেই তারা মোজতবা খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর চেষ্টা করবে, ঠিক যেমনটি তারা তার পিতার ক্ষেত্রেও করে আসছে।
তবে কেবল সামরিক বা গোয়েন্দা কার্যক্রমেই এ প্রতিক্রিয়া সীমাবদ্ধ নয়। ইসরায়েলি পক্ষ এখন গভীরভাবে বিশ্লেষণ করছে যে, এ নির্বাচন ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে কী বার্তা দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বর্তমানে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার এক চূড়ান্ত লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
এমন সংকটকালীন মুহূর্তে তারা একজন ‘ধারাবাহিকতা বজায় রাখার মতো’ ব্যক্তিত্বকে বেছে নিয়েছে, যিনি সরাসরি পূর্বতন সর্বোচ্চ নেতার সন্তান। বিষয়টি কিছুটা কৌতুকপূর্ণ এবং ইঙ্গিতবহ। কারণ যে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র উৎখাত করা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি এখন অনেকটা সেই বংশানুক্রমিক ব্যবস্থার দিকেই মোড় নিচ্ছে।
ইসরায়েলি সরকার এখন মূলত কয়েকটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে। মোজতবার এ মনোনয়ন কী ইরানের বর্তমান ব্যবস্থার অবক্ষয় নাকি দুর্বলতার লক্ষণ? এটি কি এমন কোনো সুযোগ তৈরি করবে, যা ইসরায়েল তাদের স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে? বিশেষ করে সাধারণ ইরানি জনগণের কাছে মোজতবার গ্রহণযোগ্যতা বা বৈধতার বিষয়টি ইসরায়েলের জন্য নতুন কোনো কৌশলী চালের ক্ষেত্র তৈরি করে কিনা, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
যদিও এসব প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর এখনো মেলেনি, তবে তেলআবিবের আলোচনার টেবিলে এ বিষয়গুলোই এখন প্রধান হয়ে উঠেছে। সূত্র: আলজাজিরা।
ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের ১০ম দিনে আমরা যা জানি
