মাত্র ৪ বছর বয়সে কাকার হাত ধরে রেলস্টেশনে গিয়ে হারিয়ে গিয়েছিল ছোট্ট শিশুটি। এরপর দীর্ঘ ২৪টি বছর পেরিয়ে গেছে। সময়ের আবর্তে সেই শিশুটি আজ ২৮ বছরের যুবক, হয়েছেন সুদূর কানাডার নাগরিক। কিন্তু শেকড়ের টান তাকে ফিরিয়ে আনল জন্মদাতার কাছে। চীনের উত্তর-পূর্ব লিয়াওনিং প্রদেশের ঝাং ইউনপেং-এর এই জীবনকাহিনী যেন কোনো রোমাঞ্চকর সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়।
ঘটনাটি ২০০১ সালের। কাকার সঙ্গে শেনইয়াং রেলওয়ে স্টেশনে গিয়েছিল ৪ বছরের ঝাং। কাকা তাকে এক জায়গায় বসিয়ে রেখে আইসক্রিম কিনতে যান, কিন্তু আর ফিরে আসেননি। এরপর ছোট্ট ঝাংয়ের আশ্রয় হয় একটি সরকারি কল্যাণ কেন্দ্রে। সেখানে তার নতুন নাম রাখা হয় ‘শেন হুয়াবাই’।
২০০৫ সালে এক কানাডীয় দম্পতি ঝাংকে দত্তক নিয়ে নিজেদের দেশে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানেও ভাগ্য সহায় ছিল না তার। কানাডায় পৌঁছানোর মাত্র তিন মাস পরেই তার পালক বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায় এবং কেউই ঝাংয়ের দায়িত্ব নিতে রাজি হননি। শেষ পর্যন্ত অন্য একটি পরিবারে আরও ৯টি শিশুর সঙ্গে অযত্ন-অবহেলায় বড় হতে থাকেন তিনি।
বড় হয়ে হাইস্কুল পাসের পর কাজ শুরু করেন ঝাং। মনে মনে সবসময় নিজের আসল মা-বাবাকে খোঁজার স্বপ্ন দেখতেন। গত বছর তিনি চীনের ‘বেবি রিটার্নিং হোম’ নামক একটি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। গাও ইয়াং নামে কানাডায় থাকা এক চীনা শিক্ষার্থীর সহায়তায় ঝাংয়ের রক্তের নমুনা চীনের ‘ন্যাশনাল ডিএনএ ডেটাবেজে’ পাঠানো হয়। কয়েক দিন পরই মিলে যায় তার বাবা-মায়ের পরিচয়।
অবশেষে ঘটে সেই কাঙ্ক্ষিত পুনর্মিলন। বৃদ্ধ বাবা যখন নিজের ছেলেকে দীর্ঘ ২৪ বছর পর সামনে দেখলেন, তখন আবেগ সামলাতে পারেননি। সিনিয়র ঝাং বলেন, ‘২০ বছর পর হলেও অবশেষে তোমাকে দেখতে পেলাম।’ আবেগে আপ্লুত হয়ে ঝাং উত্তর দেন, ‘বাবা, আমি তোমাকে ভালোবাসি।’ সিনিয়র ঝাং জানান, ছেলের ছবি দেখেই তিনি চিনে ফেলেছিলেন, কারণ ঝাং হুবহু তার বাবার মতো দেখতে হয়েছে।
ঝাং হারিয়ে যাওয়ার সময় তার বাবা কারাগারে ছিলেন এবং মা অন্যত্র বিয়ে করেছিলেন। ঝাং বর্তমানে কানাডার নাগরিক। কয়েক সপ্তাহ বাবার সঙ্গে সময় কাটিয়ে তিনি আপাতত কানাডায় ফিরে গেছেন, তবে ভবিষ্যতে নিজের শেকড়ের কাছে ফেরার পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত করেননি।
হামলার পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে: আইআরজিসি
