এক দিনেই তেলের দাম বাড়লো ২৫ শতাংশ, জরুরি অবস্থা

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম

ইরান যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) এক দিনেই তেলের দাম বেড়েছে ২৫ শতাংশ। যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলো তেল উত্তোলন কমিয়ে দেওয়া এবং তেহরানের অনমনীয় অবস্থানের কারণে এশিয়ার দেশগুলোতে অর্থনৈতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে পরবর্তী নেতা হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এই খবরের পর বাজার আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ থাকা এবং ইরাক ও কুয়েত তেল উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক লাফে ২৫ শতাংশ বেড়ে গেছে।

বাংলাদেশসহ এশিয়ায় প্রভাব ও জরুরি পদক্ষেপ

বাংলাদেশ: জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়া: প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো জ্বালানি তেলের দামের ওপর উর্ধ্বসীমা (Price Cap) নির্ধারণ করেছে দেশটি।

জাপান: তাদের তেলের চাহিদার ৯৫ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জাতীয় তেলের রিজার্ভ থেকে তেল ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

ভিয়েতনাম: জ্বালানি আমদানির ওপর সব ধরণের শুল্ক প্রত্যাহার করেছে।

চীন: দেশটি তাদের রিফাইনারিগুলোকে জ্বালানি তেল রপ্তানি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে এক সপ্তাহে গ্যাসের দাম ১১ শতাংশ বাড়লেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখছেন। নিজের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে তিনি লিখেছেন, ‘ইরানের পরমাণু হুমকি ধ্বংস হলে তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে। আমেরিকা ও বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এই সাময়িক মূল্যবৃদ্ধি খুবই সামান্য একটি ত্যাগ। কেবল বোকারাই ভিন্ন কিছু ভাববে।’

জ্বালানি বিশ্লেষক মুয়ু জু সতর্ক করেছেন যে, হরমুজ প্রণালী দীর্ঘকাল বন্ধ থাকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি ‘পারফেক্ট স্টর্ম’ বা ভয়াবহ দুর্যোগ তৈরি করেছে। কাতার ইতোমধ্যে এলএনজি (LNG) রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে এবং সৌদি আরব ও আমিরাতও উৎপাদন কমানোর পথে হাঁটছে।

DR/SN
আরও পড়ুন