ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে ‘শত্রুদের কোনো সুযোগ বা দয়া দেখানো হবে না’—মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের এমন বিতর্কিত মন্তব্যে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। মানবাধিকার সংস্থা ও আইনি বিশ্লেষকরা বলছেন, হেগসেথের এই ‘নো কোয়ার্টার’ (No Quarter) নীতি বা শত্রুপক্ষকে আত্মসমর্পণের সুযোগ না দিয়ে সরাসরি হত্যার হুমকি আন্তর্জাতিক যুদ্ধের আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি একটি ‘যুদ্ধাপরাধ’।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ বলেন, ‘আমরা আমাদের চাপ অব্যাহত রাখব। আমরা এগিয়ে যাব। আমাদের শত্রুদের জন্য কোনো ক্ষমা বা দয়া নেই (No quarter, no mercy)।’
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস এবং হেগ কনভেনশন অনুযায়ী, যুদ্ধে লিপ্ত কোনো পক্ষ যদি ঘোষণা করে যে তারা কাউকে জীবিত রাখবে না বা আত্মসমর্পণের সুযোগ দেবে না, তবে তা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ‘ওয়ার ক্রাইমস অ্যাক্ট ১৯৯৬’ এবং সামরিক ম্যানুয়ালেও এই ধরণের হুমকি দেওয়াকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রায়ান ফিনুকেন আল জাজিরাকে বলেন, ‘এই ধরণের আইনহীন বাগাড়ম্বর অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর অর্থ হলো— যুদ্ধক্ষেত্রে যারা অস্ত্র নামিয়ে রাখতে চায়, তাদেরও হত্যার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা নিজেই একটি যুদ্ধাপরাধ।’
হেগসেথের এই মন্তব্যের পরপরই দক্ষিণ ইরানে একটি মেয়েদের স্কুলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৭০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই শিশু। গত এক সপ্তাহের যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ১,৪৪৪ জন ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ।
ভারত মহাসাগরে ইরানের যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’ ডুবিয়ে দেওয়া নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে। জাহাজটিতে ১৩০ জন নাবিক ছিলেন যাদের মধ্যে ৮৪ জন নিহত হন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি জেনারেলদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন কেন জাহাজটি দখল না করে ডুবিয়ে দেওয়া হলো। উত্তরে এক জেনারেল বলেছিলেন, ‘স্যার, এভাবে করাটাই অনেক বেশি মজার (more fun)।’
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর ওয়াশিংটন ডিরেক্টর সারা ইয়াগার একে একটি বড় ‘বিপৎসংকেত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘শীর্ষ নেতাদের এমন বক্তব্যই নির্ধারণ করে দেয় যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্যরা কেমন আচরণ করবে। আইনি সীমাবদ্ধতাকে তুচ্ছজ্ঞান করা অত্যন্ত ভয়াবহ ফল ডেকে আনতে পারে।’
উল্লেখ্য, পেন্টাগনের এই নতুন আক্রমণাত্মক নীতি অনুযায়ী, প্রথম ১০০ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে যে পরিমাণ বোমা ফেলা হয়েছে, তা আইসিল (ISIS)-এর বিরুদ্ধে ছয় মাসের অভিযানের চেয়েও বেশি।
সূত্র: আল জাজিরা
মোজতবা খামেনির মাথার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পুরস্কার ঘোষণা
রাতে ইরানে সর্বোচ্চ হামলার হুমকি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
