মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রতিমুহূর্তে আরও ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী হয়ে উঠছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে নিহতের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির কুর্দিস্তান প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ১১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৯৬৯ জন, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
যুদ্ধের এই তাণ্ডব কেবল ইরানেই সীমাবদ্ধ নেই; লেবাননের মাজদাল এলাকায় হিজবুল্লাহর একটি অস্ত্রাগারে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। রকেট স্থানান্তরের সময় হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের চিহ্নিত করে এই হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে, ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীও চরম বিপাকে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ইরাকের আল আসাদ ও আল হারির বিমানঘাঁটিতে অন্তত ৮ বার হামলা চালিয়েছে ইরানপন্থি জোট ‘দ্য ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স’। বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের হেলিপ্যাড ধ্বংস হওয়ার পর দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ ‘লেভেল ফোর’ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরান ‘পুরোপুরি পরাজিত’ এবং তিনি খার্গ দ্বীপের সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের মাধ্যমে তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে ইরানের কুর্দিস্তান ও ইলাম প্রদেশে (যেখানে ৬ মাসের শিশুসহ একই পরিবারের ৬ জন নিহত হয়েছেন) সাধারণ নাগরিকদের ওপর এই নির্বিচার হামলা যুদ্ধের ভয়াবহতাকেই স্পষ্ট করছে। ওদিকে ওকিনাওয়া থেকে রওনা হওয়া ২,৫০০ মার্কিন মেরিন সেনা সরাসরি স্থল অভিযানে অংশ নিতে অগ্রসর হচ্ছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে এখন আর কোনো নিরাপদ স্থান অবশিষ্ট নেই।
২৪ ঘণ্টায় ৮ বার কাঁপলো ইরাকের ২ মার্কিন ঘাঁটি
