আমিরাতে যুদ্ধ নিয়ে গুজব ছড়ানোর দায়ে বাংলাদেশিসহ ১০ জন গ্রেপ্তার

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে এক বাংলাদেশিসহ ১০ জন প্রবাসী নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে এই অসাধু চক্রটিকে শনাক্ত করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও ইরান, পাকিস্তান, ভারত, ফিলিপাইন, মিশর, নেপাল, ক্যামেরুন ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন। আরব আমিরাতের পাবলিক প্রসিকিউশন ইতিমধ্যে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের বাস্তব ফুটেজ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি বানোয়াট ভিডিও প্রচার করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছিল। এসব ভিডিওতে আরব আমিরাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিস্ফোরণ, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এবং সামরিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এমনকি বিদেশের কোনো ঘটনার দৃশ্যকে আমিরাতের ঘটনা বলে চালানোর পাশাপাশি শিশুদের আবেগ ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, আসামিরা অত্যন্ত চতুরতার সাথে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নিরাপত্তাহীনতার ভুয়া চিত্র ফুটিয়ে তুলেছিল।

আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল ড. হামাদ সাইফ আল শামসি জানিয়েছেন, এ ধরনের কন্টেন্ট জননিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করে এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা নষ্ট করে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য ছড়ানো সহ্য করা হবে না। দেশের সামরিক সক্ষমতা বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংক্রান্ত কোনো ফুটেজ শেয়ার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এটি শত্রুভাবাপন্ন শক্তিকে তথ্য বিকৃতির সুযোগ করে দেয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাইবার আইন অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্তদের কমপক্ষে এক বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন ১ লাখ দিরহাম (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৩ লাখ টাকার বেশি) জরিমানার বিধান রয়েছে।

আমিরাত প্রশাসন সকল প্রবাসীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল হওয়ার এবং যেকোনো তথ্য শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে। তথ্য বিকৃতি ও গুজব রোধে দেশটিতে বর্তমানে 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

NB
আরও পড়ুন