মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়েছে ফ্রান্স। একই সাথে ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অত্যন্ত জরুরি ‘ইন্টারসেপ্টর’ বা প্রতিরোধকারী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসার খবর পাওয়া গেছে।
হরমুজ প্রণালী নিরাপদ রাখতে ফ্রান্সসহ বিভিন্ন মিত্র দেশকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরই খবর রটেছিল যে, ফরাসি নৌবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে ১০টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে। তবে শনিবার (১৪ মার্চ) ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই খবরটি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে মন্ত্রণালয় জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে কোনো নতুন যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়নি। ফ্রান্সের রণতরিগুলো বর্তমানে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অবস্থান করছে এবং তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত। ফ্রান্সের এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ ‘আত্মরক্ষামূলক ও সুরক্ষামূলক’। তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আপাতত এই যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
অন্যদিকে, ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের ভয়াবহতা ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চরম চাপের মুখে ফেলেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসরায়েল ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে যে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধকারী ‘ইন্টারসেপ্টর’ এর মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের সংঘাতের সময়ও ইসরায়েল একই ধরণের সংকটে পড়েছিল। তবে এবার পরিস্থিতি আরও জটিল, কারণ ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রে ‘ক্লাস্টার মিউনিশন’ বা গুচ্ছ বোমা ব্যবহার করছে। এর ফলে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের বিপরীতে ইসরায়েলকে একাধিক ইন্টারসেপ্টর ছুড়তে হচ্ছে, যা তাদের মজুত ভাণ্ডারে টান ফেলেছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি দ্রুত ইন্টারসেপ্টরের সরবরাহ নিশ্চিত করা না যায়, তবে ইরানের পরবর্তী বড় ধরণের হামলায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যূহ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের হুঁশিয়ারিতে ডেমোক্র্যাটদের নিন্দা
হরমুজ প্রণালী সচল করতে আন্তর্জাতিক নৌ-জোটের ডাক ট্রাম্পের
