দুই বছরও টিকবে না ন্যাটো : জেন্স স্টলটেনবার্গ

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৬, ০২:০৭ এএম

আর দুই বছরের বেশি টিকবে না পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো এমনটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জেন্স স্টলটেনবার্গ। জোটের সাবেক এ প্রধান বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদে এই জোট টিকে থাকার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

এক সাক্ষাৎকারের পর স্টলটেনবার্গের এ মন্তব্যের কথা জানানো হয়। তার মতে, ট্রাম্পের বর্তমান প্রেসিডেন্সি চলাকালীন ন্যাটো অক্ষুণ্ণ থাকার কোনো গ্যারান্টি নেই।

একই সময়ে স্টলটেনবার্গ এই মত প্রকাশ করেন যে, ইরান-বিরোধী মার্কিন-ইসরাইলি সামরিক ‘অভিযানে’ ন্যাটোর গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কম। তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে, এই সংঘাতের কারণে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক পরিণতি দেখা দিতে পারে।

ট্রাম্প ন্যাটোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় ইউরোপীয় দেশগুলোর কম অবদানের জন্য বারবার তাদের সমালোচনা করেছেন এবং সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়ে তাদের জিডিপির পাঁচ শতাংশে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন।

স্টলটেনবার্গ বলেন, ন্যাটোর সাবেক মহাসচিব মনে করেন না যে মিত্র দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতে আরও জড়িয়ে পড়বে। তবে তিনি উদ্বিগ্ন যে, ইরানের সাথে চলমান এই যুদ্ধ রাশিয়ার অর্থনীতিকে লাভবান করবে এবং ইউক্রেন আক্রমণ থেকে বিশ্বের মনোযোগ সরিয়ে দেবে।

শনিবার (১৫ মার্চ) সকালে প্রচারিত সিবিসির 'দ্য হাউস'-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্টলটেনবার্গ বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সংঘাতগুলোতে ন্যাটো কখনোই কোনো বড় ভূমিকা পালন করেনি। আমি মনে করি, ন্যাটোকে এই সংঘাতে জড়ানো থেকে বিরত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ন্যাটোর মিত্ররা আরও বেশি জড়িয়ে পড়বে না বলে তিনি বিশ্বাস করলেও, এর বৈশ্বিক প্রভাব নিয়ে স্টলটেনবার্গ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালক ক্যাথরিন কালেনকে স্টলটেনবার্গ বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, এর অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যাপক। জ্বালানির দাম বাড়ছে, যা বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস ও মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।’

স্টলটেনবার্গ বর্তমানে নরওয়ের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি বলেন, ‘মানবিক দুর্ভোগ ও অর্থনৈতিক পরিণতির এই সংমিশ্রণই স্বাভাবিকভাবে আমাকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে হারা-জেতার কিছু না থাকলেও পরাজিত হলে ট্রাম্পের ক্ষমতা কমে যাবে। এরপরও তিনি দুবছর ক্ষমতায় থাকতে পারবেন। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, এরপর আর তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই।

HN
আরও পড়ুন