ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই জানিয়েছেন, যখন তাদের দেশ ক্রমাগত প্রাণঘাতী বিমান হামলার শিকার হচ্ছে, তখন ইরানের কাছ থেকে সংযম আশা করা অর্থহীন। যারা প্রথমে আক্রমণ শুরু করেছে, সেই আগ্রাসীরা আগে হামলা বন্ধ করলে তেহরান কোনো গঠনমূলক প্রতিক্রিয়ার কথা ভাববে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা জানান। বাকাইয়ের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
ইরানি সামরিক কমান্ড বলছে, তারা মার্কিন ও ইসরায়েলি সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো চিহ্নিত করে রেখেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সীমিত করেছে এবং বর্তমানে সেখানে এক ধরনের ‘কার্যকর অবরোধ’ চলছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসমাইল বাকাইয়ের এই বক্তব্য সরাসরি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের প্রতি একটি আল্টিমেটাম, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান আর একতরফা কোনো চাপ মেনে নিতে রাজি নয়। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, যুদ্ধের বিস্তৃতি রোধ করার চাবিকাঠি এখন ওয়াশিংটনের হাতে।
প্রসঙ্গত এর আগে ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেছেন আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ‘হরমুজ প্রণালী’ সম্পূর্ণ খুলে না দিলে ইরানের বৃহত্তম বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ট্রাম্প যদি তার হুমকি অনুযায়ী ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালায়, তবে ইরানও ওই অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জ্বালানি সংশ্লিষ্ট স্বার্থ এবং অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করবে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল হামলার ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে
