ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধান

যুদ্ধে কৌশলগতভাবে এগিয়ে ইরান

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৩ এএম

ব্রিটেনের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-৬ এর সাবেক প্রধান অ্যালেক্স ইয়ঙ্গার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইরান বর্তমানে কৌশলগতভাবে এগিয়ে রয়েছে।

দ্য ইকোনমিস্টের এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধের জটিলতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারেনি এবং প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকেই ইরানের কাছে উদ্যোগ হারিয়েছে।’

‘প্রত্যাশার তুলনায় ইরান অনেক বেশি স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে’ উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ইরান আগেভাগেই তাদের সামরিক সক্ষমতা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেওয়া এবং অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করার মতো কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছিল, যা শক্তিশালী বিমান হামলার মধ্যেও তাদের প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়িয়েছে।

তার মতে, মাঠের গোয়েন্দা তথ্য ও পেশাদার বিশ্লেষণ অনেক ক্ষেত্রে যথেষ্ট নির্ভুল হলেও, তা প্রায়ই রাজনৈতিক নেতৃত্বের হাতে গিয়ে বিকৃত রূপ পায় এবং যুদ্ধের পক্ষে জনমত তৈরির হাতিয়ার হয়ে ওঠে। ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক যুদ্ধ–পরিস্থিতিও তার ব্যতিক্রম নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। 

ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি মনে করিয়ে দেন, ইরাক যুদ্ধের মতো এখানে কোনো ৯/১১ ধরনের আকস্মিক আঘাত নেই, যা জনমনে সরাসরি যুদ্ধের নৈতিক ভিত্তি তৈরি করতে পারে। তাই ইরানের ভবিষ্যৎ সামরিক সক্ষমতাকে অতিরঞ্জিত করে, “এখনই আঘাত না করলে পরে আর সুযোগ থাকবে না” ধরনের বার্তা ছড়ানো হচ্ছে বলে তার বিশ্লেষণ। ইরান সরাসরি আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে হামলা করতে সক্ষম—এ ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্যের পেছনে গোয়েন্দা তথ্য অনেক বেশি জটিল ও অনিশ্চিত, কিন্তু জনতার সামনে তা একধরনের নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। 

ইরানের সামরিক সামর্থ্য নিয়ে তিনি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা, পাশাপাশি ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন ও লেবাননে মিত্র মিলিশিয়াদের মাধ্যমে ইরান বাস্তব ও কার্যকর হুমকি তৈরি করেছে। তবু এটি আমেরিকার শহরগুলো মুহূর্তে ধ্বংস করে দেওয়ার মতো ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পরমাণু কর্মসূচি প্রসঙ্গে তার অভিযোগ, রাজনৈতিক বক্তৃতায় যেখানে প্রায়ই শোনা যায় “ইরান মাত্র এক সপ্তাহ দূরে”, “প্রায় বোমা বানিয়েই ফেলেছে”—গোয়েন্দা নথিতে সেখানে অনিশ্চয়তা, সময়সীমা ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার জটিল হিসাব থাকে, যা সাধারণত জনসমক্ষে আসে না। 

ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কথা টেনে তিনি সতর্ক করেন, সেখানেও “বিধ্বংসী অস্ত্র”–এর নামে গোয়েন্দা তথ্যকে চাপ দিয়ে, বেছে নিয়ে এবং কখনো বিকৃত করে যুদ্ধের যুক্তি বানানো হয়েছিল, যা পরে আমেরিকার জন্য আত্মঘাতী প্রমাণিত হয়। 

তার ভাষায়, তখন নীতি–নির্ধারিত হয়েছিল আগে, পরে তার চারপাশে গোয়েন্দা তথ্যকে মানিয়ে নেওয়া হয়েছিল। 

ইরানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যদিও এবার গোয়েন্দা মহলের ভেতর থেকে কিছুটা বেশি প্রতিরোধ দেখা যাচ্ছে।

HN
আরও পড়ুন