মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত স্থায়ীভাবে নিরসনের লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক আলোচনার জন্য পাকিস্তান এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) একটি উচ্চপর্যায়ের ইরানি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রতিনিধিদের এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
আগামী শনিবার (১১ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই বহুল প্রতীক্ষিত সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে থাকবেন ট্রাম্পের বিশেষ উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং প্রভাবশালী জামাতা জ্যারেড কুশনার।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের ইরানি রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম জানিয়েছেন, ইরানের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেবেন পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

ইরানি রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম এক বার্তায় জানিয়েছেন, এই আলোচনা মূলত তেহরানের প্রস্তাবিত ‘১০ দফা’ পরিকল্পনার ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ফলে ইরানি জনগণের মধ্যে এই শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। তা সত্ত্বেও আমরা একটি টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনায় অংশ নিচ্ছি।’
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুরু থেকেই এই যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। পাশাপাশি এই শান্তি প্রক্রিয়ায় চীনের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছে ওয়াশিংটন।
মুখপাত্র লেভিট জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করেন এবং বেইজিং এই সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে পুরো মধ্যপ্রাচ্য লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ২৫৪ জন নিহতের ঘটনায় উত্তেজনা আবারও তুঙ্গে উঠেছে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই শনিবারের এই সরাসরি বৈঠককে ‘শেষ সুযোগ’ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। এই বৈঠক সফল হলে স্থায়ীভাবে থামতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের নজিরবিহীন সংঘাত। সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি ও আল-জাজিরা।
লেবাননকেও যুদ্ধবিরতির আওতায় আনার দাবি
‘প্রকৃত’ যুদ্ধবিরতি চুক্তি না মানলে ইরানে ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
