পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর এবার ইরানের ওপর চূড়ান্ত আঘাত হানার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরান যদি ওয়াশিংটনের দেওয়া শর্তগুলো মেনে নিতে ব্যর্থ হয়, তবে দেশটির ওপর কঠোর ‘নৌ-অবরোধ’ (Naval Blockade) আরোপ করার হুমকি দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১২ এপ্রিল) ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘টাইম অব ইসরায়েল’ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি বিশেষ নিবন্ধ শেয়ার করেছেন। ট্রাম্প-সমর্থিত সংবাদমাধ্যম ‘জাস্ট দ্য নিউজ’-এ প্রকাশিত ওই নিবন্ধটির শিরোনাম দেওয়া হয়েছে- ‘ইরান মাথা নত না করলে প্রেসিডেন্টের হাতে থাকা তুরুপের তাস: নৌ-অবরোধ’।
নিবন্ধটিতে দাবি করা হয়েছে, এই নৌ-অবরোধের মাধ্যমে ইরানের সমুদ্রপথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেশটির অর্থনীতিকে ‘শ্বাসরুদ্ধ’ করে দেওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে ইরানের মিত্র হিসেবে পরিচিত চীন এবং ভারতও প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়বে, কারণ এই দেশ দুটি তাদের জ্বালানি চাহিদার বড় একটি অংশ ইরানি তেলের মাধ্যমে মেটায়।
প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপকে তার আগের একটি ‘সফল কৌশলের’ পুনরাবৃত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর হাতে আটক করার আগে দেশটির ওপর একই ধরণের নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়েছিল। সেই অবরোধের ফলে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি পুরোপুরি ধসে গিয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত মাদুরোর পতন ত্বরান্বিত হয়েছিল।
ইসলামাবাদে জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রতিনিধিদলের সাথে ইরানের প্রতিনিধিদের ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্পের এই নতুন হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিমান হামলার পর এখন নৌ-অবরোধ শুরু হলে তা একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের দিকে মোড় নেবে।
ইরান চুক্তিতে আসুক বা না আসুক, আমরা জয়ী: ট্রাম্প
হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
